নিতীশ রেড্ডি, ঝুঁকেগা নেহি সালা!

দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ওয়ানডে স্টাইলের দুইটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস। আর এবার পেয়ে গেলেন ব্যক্তিগত হাফ-সেঞ্চুরি - রোহিত শর্মা তো পুরো সিরিজেই ব্যর্থ, বিরাট কোহলিও পারেননি এই ম্যাচে বড় রান করতে। মেলবোর্নে অজি বোলারদের বিপক্ষে বিশ্বসেরা ব্যাটারদের যখন এই হাল, তখন নিতীশ হয়ে উঠেছেন ত্রাতা।

আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়/ পদাঘাতে ভাঙ্গতে চায় পাথর বাঁধা – নিতীশ কুমার রেড্ডির বয়সটা আঠারো না হলেও ক্রিকেটীয় বিচারে তিনি তো এখনো নবীন। মাত্রই পা রেখেছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। অথচ তাঁর সাহসের অভাব নেই এক বিন্দু, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাঁদের বিপক্ষেই বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে একটুও ভয় লাগে না তাঁর।

পুষ্পা, ঝুঁকেগা নেহি সালা; ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট হাফ-সেঞ্চুরির পর সেই বার্তাটাই তো দিয়েছেন এই ডান-হাতি। পুষ্পার ভঙ্গিতে উদযাপনের আর কি’বা কারণ হতে পারে। বলা বাহুল্য তিনি ভাঙ্গবেন, তবু মচকাবেন না। তাঁর এমন দৃঢ়তার সুবাদেই অথৈ জলে তল খুঁজে পেয়েছে ভারত; ফলো-অনের শঙ্কা এড়িয়ে ম্যাচে ফিরতে পেরেছে।

প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ যখন তাসের ঘরের মত ভেঙে গিয়েছিল, তখন এই তরুণের করা ৪১ রান লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছিল দলকে। দ্বিতীয় ইনিংসেও ১৪০ স্ট্রাইক রেটে ৩৮ রান করে দলকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দিতে অবদান রাখেন তিনি।

দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ওয়ানডে স্টাইলের দুইটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস। আর এবার পেয়ে গেলেন ব্যক্তিগত হাফ-সেঞ্চুরি  রোহিত শর্মা তো পুরো সিরিজেই ব্যর্থ, বিরাট কোহলিও পারেননি এই ম্যাচে বড় রান করতে। মেলবোর্নে অজি বোলারদের বিপক্ষে বিশ্বসেরা ব্যাটারদের যখন এই হাল, তখন নিতীশ হয়ে উঠেছেন ত্রাতা।

আগেরদিন পাঁচ উইকেট তুলে নেয়ার পর স্বাগতিক বোলাররা নিশ্চয়ই অল্প রানে টিম ইন্ডিয়াকে গুটিয়ে দেয়ার কথা ভেবেছিল। ঋষাভ পান্ত আর রবীন্দ্র জাদেজা দ্রুত ফিরে গেলে সেই ভাবনা বাস্তবে মোড় নিতে শুরু করে।

কিন্তু এই উদীয়মান অলরাউন্ডার বদলে দিলেন ম্যাচের পরিস্থিতি, ওয়াশিংটন সুন্দরকে সঙ্গে নিয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দেখালেন।

তবু প্রশ্ন থেকে যায় রোহিতদের নিয়ে, লোয়ার মিডল অর্ডারের ভরসায় আর কত? টপ অর্ডার কিংবা মিডল অর্ডার থেকে দায়িত্ব নিতে পারলে ম্যাচ জেতা প্রায় অসম্ভব। আর খেলাটা যদি হয় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাহলে তো কথাই নেই।

Share via
Copy link