স্মার্ট ক্রিকেট, বাংলাদেশের জয়ের সূত্র

ডট কমিয়েই জেতার সূত্র খুঁজে পেল বাংলাদেশ। এটা এমন একটা বিষয় যেটা ক্রিকেটের স্কোরকার্ডে খালি চোখে চোখে পড়ে না।

ডট কমিয়েই জেতার সূত্র খুঁজে পেল বাংলাদেশ। এটা এমন একটা বিষয় যেটা ক্রিকেটের স্কোরকার্ডে খালি চোখে চোখে পড়ে না। কাগুজে ভাষায় যাকে বলে রানিং বিটুইন দ্য উইকেট। অথচ এশিয়া কাপের সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচেই দেখা গেল এগুলোই নির্ধারণ করেছে দুই দলের পার্থক্য।

শ্রীলঙ্কা খেলেছে ৪৬ টি ডট বল, অন্যদিকে বাংলাদেশ মাত্র ২৭ টি। এই এক পরিসংখ্যানই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে মিডল ওভারগুলোতে সিঙ্গেল-ডাবল নেওয়ার ধারাবাহিকতায় ব্যাটাররা চাপমুক্ত থেকেছেন। ফলে রান তাড়া করাটা সহজ হয়েছে।

শামীম হোসেনের শেষ রানের জন্য ছুটে যাওয়া কিংবা নিয়মিত ডাইভ দিয়ে উইকেটে পৌঁছানো—সবই প্রতিফলন দেয় দলটির নতুন মানসিকতার। প্রতিনিয়ত রান বের করতে চেয়েছেন লিটন দাস, সাইফ হাসান কিংবা তাওহীদ হৃদয়। কেবল বাউন্ডারি নয়, গ্যাপ বের করে সিঙ্গেল-ডাবল নিয়েছেন।

এর আগে আফগানিস্তানের ম্যাচে আলোচনায় ছিলেন দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের জন্য। এ ধরনের অ্যাথলেটিক প্লেয়ারই এখন বাংলাদেশের প্রয়োজন। রানিং বিটুইন দ্য উইকেটের মত দারুণ ফিল্ডিংও ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দেয়।

তবে চ্যালেঞ্জও আছে। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ক্যাচিং এফিসিয়েন্সি মাত্র ৭৬ শতাংশ। যা সামগ্রিক মানদণ্ডে একদম ইতিবাচক নয়। তরুণ ও ফিটনেস নির্ভর একটি দল কেন এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ৭ টি ক্যাচ মিস করেছে। ১১ টি মিস নিয়ে তাদের উপরে আছে স্রেফ হংকং। ধরতে পেরেছে ১৭ টি ক্যাচ।

ফিল্ডিং আর স্মার্ট রানিং—এসব জিনিস পরিসংখ্যানের পাতায় বড় করে লেখা হয় না। কিন্তু ম্যাচ জেতার গোপন চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে ঠিক সেখানেই। শামিম হোসেন পাটোয়ারির ডাইভটা যেমন, কিংবা নুরুল হাসান সোহানের সেই বাঁজপাখি সুলভ ঝাপ – একদম মোক্ষম।

Share via
Copy link