জোর করে কি আর ভালবাসা হয়!

শান্তর বিদায়ের পর লিটনের উপরই দায়িত্ব ছিল ইনিংসের গতিপথ নির্ধারণ করা। তিনি প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হলে পাঁচ রানের ভেতর, সাত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লিটনের ওয়ানডে পারফরমেন্সের মতই হতশ্রী দশা গোটা দলের।

টানা দুই ওয়ানডে ইনিংসে শূন্যরানে ফিরলেন লিটন দাস। ওয়ানডে দলে তার অন্তর্ভুক্তিতে খানিক সমালোচনার উদ্রেক ঘটেছিল। কিন্তু লিটন বলেই সেই সমালোচনা ডালপালা। তিনি প্রতিভাবান, সে কারণেই সম্ভবত। কিন্তু সর্বশেষ ছয় ম্যাচে প্রতিভার প্রতিফলন ঘটেনি এক বিন্দু। ব্যর্থতা বিস্তৃতি পেল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও।

ওয়ানডেতে বাজে ফর্মের কারণে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে জায়গা হারিয়েছিলেন লিটন দাস। এরপর সেই অর্থে তিনি পারফরম করেছিলেন কি-না, তা মনে করা দুষ্কর। তবুও তাকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানোডে সিরিজে রেখেছে বাংলাদেশের নির্বাচকরা। অবশ্য এক্ষেত্রে ভাবনাতে ছিল অভিজ্ঞতা।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সহ, শেষ ছয় ম্যাচে লিটনের সংগ্রহ ছয় রান। এমন নিদারুণ বাজে পারফরম করার পরও তাকে পরিকল্পনায় রেখেছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। সো-কল্ড টাইগারদের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক তো সোজাসাপ্টাই বলেছিলেন যে লিটনকে রাখা হয়েছে মিডল অর্ডারের ভাবনায়।

তবে মিডল অর্ডারেও যাচ্ছেতাই পারফরমেন্স অন্তত লিটনের পক্ষে কথা বলে না। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চার নম্বর ব্যাটার হিসেবে বাইশ গজে এসেছিলেন লিটন। চার বল মোকাবেলা করে শূন্যরানে আউট হয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ছয় ম্যাচ খেলেছেন তিনি এই চার নম্বরে। সর্বসাকুল্যে ৮১ রান নিতে পেরেছেন তিনি।

এর মধ্যে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৫ রানই সর্বোচ্চ। এই যখন দশা, তখন লিটনকে দেওয়া হয়েছে মুশফিকুর রহিমের জায়গা। ফরম্যাট ভেদে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম আস্থাভাজন এক চরিত্র ছিলেন মুশফিক। তার শূন্যস্থান পূরণের জন্যে লিটন আদোতে কতটুকু প্রস্তুত- সে প্রশ্ন তোলাই যায়!

ইনিংসের হাল ধরা থেকে বিল্ডআপ- এই দায়িত্বে আরও একবার বিপর্যস্ত লিটন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মঞ্চ প্রস্তুত ছিল তার জন্যে। ইনিংসের হাল ধরা তো দূরে থাক, তিনি ফিরলেন বিনা রানে। এরপর হুড়মুড় করে চোখের পলকে মাটির সাথে মিলিয়ে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার।

অথচ শান্তর বিদায়ের পর লিটনের উপরই দায়িত্ব ছিল ইনিংসের গতিপথ নির্ধারণ করা। তিনি প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হলে পাঁচ রানের ভেতর, সাত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লিটনের ওয়ানডে পারফরমেন্সের মতই হতশ্রী দশা গোটা দলের। তাইতো লিটনকে মিডল অর্ডারে সেট করার পূর্বে আরও একবার ভেবে নেওয়া প্রয়োজন। বয়স তো তার কম হল না, তরুণদের বাজিয়ে দেখা যায় নিশ্চয়ই!

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link