পরিপূর্ণ একজন পাঁচ নম্বর ব্যাটার নেই বাংলাদেশের। টি-টোয়েন্টিতে এই পজিশনটা অন্যরকম, এখানে ব্যাট করতে হয় ম্যাচের সিচুয়েশন বুঝে। সেই পরিস্থিতির চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছেন শামিম হোসেন পাটোয়ারি।
জেসন হোল্ডারের যে বলে তিনি বোল্ড হলেন, সেখানে আসলে প্রোপার কোনো ক্রিকেটিং শটই খেলতে পারেননি। ধারাভাষ্যে থাকা আতাহার আলী খান বললেন, নাথিং শট। এটা শামিম হোসেনের আজকালকার নিয়মিত দৃশ্য।
সেই এশিয়া কাপের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। এরপর থেকে তিনি টানা ব্যর্থ। তিনবার ফিরেছেন শূন্য রানে। মাঝে দুটো ৩০-৩৫ রানের ইনিংস খেললেও সেটা এই জায়গা ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ফিরে গেলেন এক রান করে, দলের বিপদ বাড়ালেন।

শামিম যে ধরণের ব্যাটার, তাতে তিনি এরকম ঘটনার শিকার আবারও হবেন। তিনি মূলত স্লগার। তিনি পাঁচ নম্বরের জন্য মানানসই নয়। আসলে, বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি একাদশটাই স্লগার দিয়ে বোঝাই, এই জাতীয় ব্যাটারদের দিয়ে কোনো ভরসা নেই। লাগলে বারি বাউন্ডারি, না লাগলে বোল্ড, যেমন হল শামিমের।
ইনিংস বিল্ড আপ করার ব্যাটার মাত্র দু’জন। লিটন দাস, আর কিছুটা তাওহীদ হৃদয়। পাঁচ নম্বরে সলিড ব্যাটার দরকার, যিনি প্রয়োজনের সময় হাত খুলতে জানেন। কিংবা দরকারে ইনিংস বিল্ড আপ করতে জানেন।
টি-টোয়েন্টিতে দুই ওপেনারের কাছ থেকে ঝড়ো শুরুই প্রত্যাশা থাকবে। সেটা না হলে, সেই একই কাজ করবেন তিন নম্বর ব্যাটার। চার আর পাঁচ নম্বরের দায়িত্ব হওয়া উচিৎ অন্তত ১৫ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করে ইনিংস বিল্ড আপ করা, যেখান থেকে স্লগাররা ইনিংস বড় করতে পারেন। স্লগাররা চার-পাঁচ নম্বরে খেলতে পারেন না, কারণ তাঁদের স্ট্রাইক রোটেড করার স্কিল কম থাকে।

ইনিংস বিল্ড আপে জাকের আলী অনিককে দিয়ে সম্ভব, স্যোশাল মিডিয়ার চাপে তিনি একাদশের বাইরে। আর বিকল্প হতে পারেন ইয়াসির আলী রাব্বি কিংবা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দুজনই ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির কাঠামোতে এই পজিশনে নিজেদের সক্ষমতা দেখাচ্ছেন।
শামিম পাটোয়ারি মূলত ছয় বা সাত নম্বরের ব্যাটার। ফলে পাঁচ নম্বরে তাঁকে একরকম অপচয় করছে বাংলাদেশ। দলে নুরুল হাসান সোহানও মূলত স্লগার। তাঁর পর যারা ব্যাটিংয়ে এসেছেন বাকিরাও তাই। এক একাদশে এত স্লগার দরকার নেই।










