সময়ের ঘূর্ণনে বদলে যায় কতকিছু। আজ আপনি সাফল্যের শিখরে, কাল চলে যেতে পারেন সমুদ্রের অতলে। ২০২২ সালের এশিয়া কাপের দুই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বিরাট কোহলি। সেই দুইজন নেই বছর তিনেক বাদে আবারও অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া কাপে।
২০২২ সালে এশিয়া কাপের ফাইনাল হেরেছিল পাকিস্তান। ভারতের যাত্রা থেমেছিল সুপার ফোরে। ফাইনাল অবধি পাকিস্তানের যাত্রায় মোহাম্মদ রিজওয়ান ছিলেন পথপ্রদর্শক। ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে ঠিক করে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের গতিপথ। হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
প্রায় ৫৬ গড়ে ২৮১ রান এসেছিল তার ব্যাট থেকে। ছয় ম্যাচে তার স্ট্রাইকরেটে ছিল ১১৭ এর একটু বেশি। ভীষণ দৃষ্টিকটু হলেও তা পাকিস্তানকে শিরোপার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছিল। কিন্তু এবার তিনি নেই কোন আলোচনায়। এশিয়া কাপের দলে আশেপাশেও নেই তিনি। অবসর নেননি, তবে তার প্রয়োজনীয়তা এখন আর অনুভব করে না পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্ট।

দর্শকদের প্রবল আগ্রহের কেন্দ্রে থাকলেও রিজওয়ানকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। ভিন্ন ঘটনা অবশ্য বিরাট কোহলির। তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিয়েছেন। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পরই তিনি এই ফরম্যাট ছাড়ার ঘোষণা দেন। অথচ ২০২২ সালে তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
দলকে সফলতার শেষ মঞ্চে নিয়ে যেতে সেবার তিনি পারেননি। তাই বলে অবশ্য রিজওয়ানের মত কচ্ছপ গতিতেও রান তোলেননি তিনি। প্রায় ১৪৮ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেছিলেন বিরাট। তার ব্যাটিং গড় রিজওয়ানের চাইতেও ছিলে ঢের ভাল। ৯২ গড়ে সেবার ২৭৬ রান তুলেছিলেন বিরাট কোহলি। স্রেফ পাঁচ রানের ব্যবধানে তিনি হতে পারেননি প্রথম।
সূর্যের চারিদিকে পৃথিবীর তিন চক্কর শেষ হতে না হতেই, এই দুই ব্যাটার এখন অতীত। এশিয়া কাপের নতুন একটা মঞ্চে তাদের দুইজনের মধ্যে হবে না রান তোলার দ্বৈরথ। সময়ের ঘূর্ণনে কতকিছুই বদলায়! কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়। তবুও রিজওয়ান-বিরাটদের কদর কমে না। আক্ষেপের করুণ সুর বেজে ওঠে বড় কোন টুর্নামেন্ট এলেই।












