৩২ মিনিটের ওলট-পালট ঝড়

বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা মাত্র তৃতীয় ফরাসী ফুটবলার এখন ডেম্বেলে। তাঁর আগে এই তালিকায় ছিলেন জাস্ট ফন্টেইন ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। 

মেসি-রোনালদো কিংবা স্বদেশি কিলিয়ান এমবাপ্পেদের ভিড়ে তাঁর নামটা জোর গলায় প্রায়শই উচ্চারিত হয় না। অথচ, সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান ফরোয়ার্ড উসমান ডেম্বেলে কী এক অতিমানবীয় কীর্তিই না গড়লেন বিশ্বকাপের মঞ্চে।

৩২ মিনিটেই হ্যাটট্রিক করলেন। বিশ্বকাপে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের তালিকায় চতুর্থ স্থানে এখন পিএসজির এই নাম্বার টেন। মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে দেশে ফেরায় এই ম্যাচে দলের সঙ্গে ছিলেন না প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম। কি দানবীয় এক পারফরম্যান্সই না তিনি মিস করলেন।

ম্যাচের ৭, ২০ ও ৩২ মিনিটে গোল করে নরওয়ের রক্ষণভাগকে একাই ছিন্নভিন্ন করে দেন ডেম্বেলে। তাঁর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে সহজ জয় তুলে নেয় ফ্রান্স। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ডেম্বেলের চেয়ে কম সময়ে হ্যাটট্রিক করতে পেরেছেন মাত্র তিনজন ফুটবলার। সবার ওপরে আছেন হাঙ্গেরির লাজলো কিস, যিনি ১৯৮২ বিশ্বকাপে এল সালভাদরের বিপক্ষে মাত্র ৭ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।

দ্বিতীয় স্থানে আছেন অস্ট্রিয়ার এরিখ প্রোবস্ট। তিনি ১৯৫৪ বিশ্বকাপে তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ২০ মিনিটে তিন গোল করেন। একই বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ২৬ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন হাঙ্গেরির সান্দর কোচিস। আর ৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে এখন চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেন ডেম্বেলে।

বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা মাত্র তৃতীয় ফরাসী ফুটবলার এখন ডেম্বেলে। তাঁর আগে এই তালিকায় ছিলেন জাস্ট ফন্টেইন ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

এছাড়া ডেম্বেলে আরও একটি বিরল রেকর্ড গড়েছেন। গত ৩২ বছরে বিশ্বকাপের প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করা প্রথম ফুটবলার তিনি। সর্বশেষ ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো প্রথমার্ধেই তিন গোল করেছিলেন। ৩২ বছর পর সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করলেন ফ্রান্সের এই তারকা।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link