ইকুয়েডর রূপকথার নেপথ্যের কারিগর!

যে ইকুয়েডরকে আগে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনায় নিতো না, সেই দলকেই তিনি লাতিন আমেরিকার অন্যতম সেরা দলে পরিণত করেছেন বেকেসাস।

বলেছিলেন গ্রুপপর্ব পেরোতে না পারলে পদত্যাগ করবেন, কিন্তু, সেই দিন দেখতে হলো না সেবাস্টিয়ান বেকাসেসকে. শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ইকুয়েডর। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্তব্ধ করে মহাকাব্যিক এই জয়ে নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারেননি বেকাসেস, গ্যালারিতে থাকা পরিবারের সাথে মেতেছেন বাঁধভাঙা উল্লাসে।

১৯৮০ সালে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্ম নেওয়া বেকাসেসের ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০০৩ সালে জর্জ সাম্পাওলির সহকারী হিসেবে শুরু হয় তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের অধ্যায়। পরবর্তীতে চিলির সহকারী কোচ হিসেবে ২০১৪ বিশ্বকাপ ও ২০১৫ কোপা আমেরিকা জয়ের নেপথ্য কারিগর ছিলেন তিনি।

একসময় সহকারী কোচ হিসেবে আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল স্কালোনির সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করতেন তিনি। কিন্তু ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে স্কালোনির সাথে তাঁর আদর্শিক দ্বন্দ্ব চরম রূপ নেয়। লিওনেল মেসিদের ওপর বেকেসাসের অতিরিক্ত কড়া শাসন এবং খেলোয়াড়দের সাথে দ্বিমত করায় ড্রেসিংরুমে তৈরি হয়েছিল তীব্র বিভেদ। স্কালোনির চিন্তার সাথে তাঁর কোচিংয়ের মিল ছিল না। 

রাশিয়া বিশ্বকাপের পর সাম্পালিও আর্জেন্টিনা দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। আর স্কালোনি আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন। অন্যদিকে বেকাসেসে নিজের মতো করে শুরু করেন নতুন লড়াই। ডিফেনসা ই জাস্তিসিয়া, রেসিং ক্লাব এবং লা লিগার এলচের মতো দলগুলোকে সামলানোর মাধ্যমে তিনি প্রতিনিয়ত ডাগআউটে নিজের ফুটবল দর্শনকে আরও ধারালো ও পরিপক্ক করে তোলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে ফেলিক্স সানচেজের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ইকুয়েডরের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন বেকাসেস। ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে তাঁর কঠোর রক্ষণাত্মক ও কাউন্টার-অ্যাটাক নির্ভর কৌশল সফলতার মুখ দেখে। জার্মানির বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও নিলসন অ্যাঙ্গুলো এবং গঞ্জালো প্লাতার গোলে অবিস্মরণীয় এক জয় ছিনিয়ে নেয় তাঁর শিষ্যরা।

ম্যাচ শেষে বেকাসেস একে দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় বলে আখ্যা দেন। যে ইকুয়েডরকে আগে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনায় নিতো না, সেই দলকেই তিনি লাতিন আমেরিকার অন্যতম সেরা দলে পরিণত করেছেন বেকেসাস। এখন দেখার বিষয়, বেকাসেসের দেখানো পথে ইকুয়েডর বিশ্বকাপে কতদূর যেতে পারে।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link