পুরো ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছিল কিলিয়ান এমবাপ্পে আর আর্লিং হাল্যান্ডের দ্বৈরথ দেখার। তবে সে আর হলো কই! ফ্রান্সে এমবাপ্পে থাকলেও নরওয়ে নামল সেরা তারকাকে ছাড়াই। অগত্যা ম্যাচের ফলাফলও নিজেদের পক্ষে গেল না। নরওয়েকে রীতিমতো ৪-১ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিল প্রতাপশালী ফ্রান্স।
যদিও এই ম্যাচে খুব বেশি চাপ ছিল না ফ্রান্সের ওপর। আগেই নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় একাদশে চারটি পরিবর্তন আনে তারা। অন্যদিকে নরওয়ে যেন পুরো মনোযোগ রেখেছিল পরের রাউন্ডে। তাই আর্লিং হাল্যান্ডসহ মোট ১০টি পরিবর্তন এনে মাঠে নামে দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্স নরওয়ের রক্ষণের দিকে আক্রমণাত্মক যাত্রা শুরু করে। মাত্র ২৫ সেকেন্ডেই কিলিয়ান এমবাপ্পের শট লেগেছিল ক্রসবারে। সেটাই যেন ছিল আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস। নরওয়ে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার আগেই সপ্তম মিনিটে আসে প্রথম আঘাত। এমবাপ্পের নিখুঁত পাস ধরে বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত শটে জাল কাঁপান উসমান ডেম্বেলে। শুরু হয়ে যায় তাঁর ব্যক্তিগত মহাকাব্য।

প্রথম গোলের ধাক্কা সামলানোর আগেই আবারও আঘাত। এমবাপ্পের আরেকটি নিখুঁত অ্যাসিস্ট, আর ডেম্বেলের নিখুঁত ফিনিশ,দুই গোলের লিড পেয়ে যায় লে ব্লুস। দুই তারকার বোঝাপড়া যেন নরওয়ের রক্ষণকে বারবার অসহায় করে তুলছিল।
তবে ম্যাচে ফিরতে চেয়েছিল নরওয়েও। ২১ মিনিটে থেলো আসগার্ড এক গোল শোধ করে কিছুটা আশা জাগান। কিন্তু সেই আশার আলো নিভিয়ে দিতে দেরি করেননি ডেম্বেলে। ৩২ মিনিটে অরেলিয়াঁ চুয়ামেনির কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে পূর্ণ করেন নিজের হ্যাটট্রিক।
বিরতির পর নরওয়ের সামনে ম্যাচে ফেরার সোনালি সুযোগ এসেছিল। অস্কার ববের ওপর ফাউলে পেনাল্টি পায় তারা। তবে সেটাকেও গোলে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয় দলটি। সেই মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় নরওয়ের শেষ আশাটুকুও।

তবে ফ্রান্সের গল্প শেষ হয়নি তখনও। অতিরিক্ত সময়ে এসে আরও একবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠান দেজিরে দুয়ে। ফলাফল, ৪-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করল ফ্রান্স। নরওয়ের উপর অবশ্য এই ফলাফল কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাদের নজর যে এখন নকআউটে।










