পাঞ্জাবের পাঁচ রান চুরি!

ওই পাঁচটা রান বাড়তি পেলে অবশ্যই পাঞ্জাবের জয়ের সম্ভাবনা আরেকটু বাড়ত। একই সাথে পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে ওঠারও সুযোগ পেত পাঞ্জাব। এত প্রযুক্তি নিয়ে কী লাভ, যদি সিদ্ধান্তটা ভুলই হয়?

আইপিএল নামক ধুমধাড়াক্কা জমকালো উৎসবের মাঝেও যখন প্রযুক্তি চোখ বন্ধ করে থাকে, তখন একজন মালিকের ভেতরের সমর্থক চিৎকার করেই উঠবে—এটাই স্বাভাবিক। সেটাই করলেন পাঞ্জাব কিংসের মালিক প্রীতি জিনতা। দাবি, করলেন প্রযুক্তির যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়াই তাঁদের পাঁচ রান ইচ্ছা করে কেটে নিয়েছেন আইপিএলের আম্পায়ার।

১৫ তম ওভারের শেষ বল, ব্যাটিংয়ে শশাঙ্ক সিং। মোহিত শর্মার বলটা তুলে মারলেন সোজা লং অনের দিকে। বাউন্ডারির একদম ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন করুণ নায়ার। লাফিয়ে বলটা হাতে নেন, সঙ্গে সঙ্গেই চেষ্টা করেন রোপের ভেতরে ফ্লিক করে দিতে। কিন্তু ফ্লিক করার আগেই মনে করেন, হয়তো পা লাগিয়ে ফেলেছেন রোপে! তাই নিজেই ছয় হওয়ার সিগনাল দিয়ে দেন।

অন ফিল্ড আম্পায়ার নায়ারের সেই সিগনালে রাজি হলেন না। তিনি সিদ্ধান্ত নিতে দায়িত্ব দিলেন তৃতীয় আম্পায়ারকে। ক্যামেরা, রিপ্লে, নানা অ্যাঙ্গেল – তৃতীয় আম্পায়ারের চোখে কিছু ধরা পড়ল না। তিনি সবদিক দেখে বলেন—না, বাউন্ডারি ছোয়ার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই। নায়ারের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে ছয় বেঁচে যায়, শশাঙ্কের খাতায় শুধু যোগ হল কেবল এক রান।

আর এখানেই সব প্রশ্নের শুরু। খেলা শেষে প্রীতি জিনতা নিজেই গিয়ে কথা বলেছেন করুণ নায়ারের সঙ্গে। জানালেন, করুণ নাকি নিশ্চিত — বলটা সীমানা পেরিয়েছিল।

বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি স্যোশাল মিডিয়াতে লিখলেন, ‘আমি করুণের সঙ্গে কথা বলেছি, ও নিজেই বলেছে — এটা নি:সন্দেহে ছক্কা ছিল। এত প্রযুক্তির মধ্যে দাঁড়িয়ে এরকম ভুল মানা যায় না। এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

পাঞ্জাবের ২০৬ রান তাড়া করে তিন বল বাকি থাকতে ছয় উইকেটে জিতেছে দিল্লী ক্যাপিটালস। ওই পাঁচটা রান বাড়তি পেলে অবশ্যই পাঞ্জাবের জয়ের সম্ভাবনা আরেকটু বাড়ত। একই সাথে পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে ওঠারও সুযোগ পেত পাঞ্জাব। এত প্রযুক্তি নিয়ে কী লাভ, যদি সিদ্ধান্তটা ভুলই হয়?

Share via
Copy link