রান লিওনেল মেসি, রান!

তবে, আর মাত্র তিনটা ম্যাচ মেসির এই দৌঁড়ানো অব্যাহত থাকলে আর্জেন্টিনাকে আর ঠেকায় কে!

ওঠো, ছোটো, দৌড়াও, গোল করো। সব জিতে যাওয়ার পরও দৌঁড়াও। ওই গোলপোস্ট কাঁপানো ওই শটটাই তোমার লক্ষ্য। পড়ে গেলে হেরে যাবে, চার পাশে হায়েনারা ছিড়ে খাওয়ার অপেক্ষায় আছে। সেই সুযোগ দেওয়ার পাত্র তুমি নও। রান লিওনেল মেসি, রান!

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ডেকোরেটেড ফুটবলার। বিশকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন। বর্তমান বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। আগের চার বিশ্বকাপ ম্যাচে সাতটা গোল। পঞ্চম ম্যাচে গিয়ে কি যেন হল, এক গোলে পিছিয়ে থাকার পর পেনাল্টি থেকে আবারও মিস।

মিশর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়াল। মেসিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথায় হারালেন? তাহলে কি নিজের বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটাই কি তাঁর ক্যারিয়ারের আরেকটি আক্ষেপ হয়ে থাকবে? এত নিষ্প্রভ ফুটবল দিয়েই কি দ্য গ্রেটেস্ট শো-কে বিদায় জানাবেন ফুটবলের বরপুত্র?

না, মেসি ফিরেছেন। তিনি উঠেছেন, ছুটেছেন। গোল করেছেন, গোল করিয়েছেন। শেষ সময়ের তিন গোল দিয়ে আরও একবার মিরাকলের উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনা। রোজারিও’র সেই ছোট্ট বালক আরও একবার আর্জেন্টিনার স্বপ্ন বাঁচিয়েছেন।

সব জিতে ফেলেও তিনি থেমে যাননি। হায়েনাদের ছিড়ে খেতে দেননি নিজের বীরত্ব, আঁচ লাগতে দেননি আর্জেন্টাইন শ্রেষ্ঠত্বে। বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এমন কামব্যাক আগে কে কবে দেখেছে? – লিওনেল মেসির সৌজন্য এমন কত মিরাকল দেখা গেছে, কিংবা ভবিষ্যতে আরও কতবার দেখা যাবে তাঁর কোনো ইয়ত্তা নেই।

তবে, আর মাত্র তিনটা ম্যাচ মেসির এই দৌঁড়ানো অব্যাহত থাকলে আর্জেন্টিনাকে আর ঠেকায় কে!

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link