আনচেলত্তির পরিকল্পনাটা মাঠে গিয়ে পুরো উল্টে গেল। এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ব্রাজিলকে দেখা গেল প্রতিপক্ষের ছকে বন্দি হয়ে খেলতে, মাত্র ৩৩ শতাংশ বল দখল নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তাদের। ভিনিসিয়াস, মার্টিনেল্লি, রায়ান আর কুনিয়ার গতির ওপর ভরসা করে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার ছক ছিল আনচেলত্তির, কিন্তু মাঠে সেই পরিকল্পনা কাজে লাগেনি।
পাকেতার অভাবটা শুধু সৃজনশীলতার নয়, মাঝমাঠ আর আক্রমণের মধ্যে যোগসূত্র হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়াল। মার্টিনেল্লি খেলেন জায়গা দখলের বদলে জায়গায় আক্রমণ চালিয়ে, তাই পাকেতার বিকল্প হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। দানিলোর দুর্বল প্রান্তেও আঘাত হানে নরওয়ে, শেল্ডেরুপ মাঠে নেমে বারবার সেই দিক দিয়ে আক্রমণ চালিয়ে হাল্যান্ডের জন্য সুযোগ তৈরি করেন।
শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে মাঠ ছাড়তে হলো পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। ৭৯ আর ৯০ মিনিটে জোড়া গোল করে হাল্যান্ড পৌঁছে যান সাত গোলে। প্রথমার্ধে গুইমারেসের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক, শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান নেইমার, তবে ততক্ষণে সময় ফুরিয়ে গেছে।

এই হার আনচেলত্তির প্রকল্পের ফাটলগুলো স্পষ্ট করে দিল। পাকেতাবিহীন মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণের অভাব, বয়সের ভারে ন্যুব্জ ফুলব্যাক, আর মুহূর্তনির্ভর ফুটবলের ওপর বাড়তি নির্ভরতা—সব মিলিয়ে ব্রাজিলের সামনের পথ এখন স্পষ্ট। আন্দ্রে সান্তোস, দানিলো সান্তোস আর এডারসনের মতো খেলোয়াড়দের আরও নিয়মিত সুযোগ দেওয়া, আর এন্ডরিক-এস্তেভাওদের গড়ে তোলার সময় এখনই। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় কষ্টের হলেও, পরের আসরের আগে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার একটা স্পষ্ট নকশা রেখে গেল এই হার।











