নিভে গেল আফগান ক্রিকেটের এক ক্ষণজন্মা তারা

জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন “নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়।” আজ সেটাই হলো সত্যি। মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই চিরবিদায় নিলেন আফগানিস্তানের এই সাবেক বাঁহাতি পেসার।

২০১৫ সাল। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে বিশ্বকাপ। স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নবাগত আফগানিস্তানের দরকার একটি জয়সূচক রান। যেন একটি স্বপ্নের যাত্রা। সেটি করেই দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে যান পেসার শাপুর জাদরান। কিন্তু জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন “নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়।” আজ সেটাই হলো সত্যি। মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই চিরবিদায় নিলেন আফগানিস্তানের এই সাবেক বাঁহাতি পেসার।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি লড়ছিলেন বিরল ও প্রাণঘাতী রোগ হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ)-এর সঙ্গে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ভারতের নয়াদিল্লিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিছুটা আশার আলো দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো তাকে।

জাদরান শুধু একজন পেসার ছিলেন না। তিনি ছিলেন আফগান ক্রিকেটের উত্থানের এক প্রতীক। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর নবীন দলটির আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার লড়াইয়ে ছিলেন সামনের সারিতে। ২০২০ সালে শেষবার জাতীয় দলের জার্সি পরেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেছেন ৮০ ম্যাচ। নিয়েছেন ৮০ উইকেট। খেলেছেন তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ছিলেন ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক আফগান দলে। অবসরের ঘোষণা দেওয়ার সময় জাদরান লিখেছিলেন, ক্রিকেট শুধু তার পেশা নয়, ছিল পরিচয়, আবেগ আর জীবনের উদ্দেশ্য।

আজ তিনি নেই। কিন্তু আফগান ক্রিকেটের সোনালী প্রজন্মের অংশ হয়ে শাপুর জাদরান চিরকাল ভক্তদের অন্তরে বেঁচে থাকবেন। আর তাঁর চিরচেনা বাঁহাতের পেস, আগ্রাসী উদযাপন আর অবিচল সংগ্রামের গল্পও হয়ে রবে জীবন্ত।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link