জাকের আলি অনিককে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার পারদটা তুঙ্গে। পাওয়ার হিটার, বড় ছক্কা হাঁকানোর দক্ষতা নিয়ে আলাপ হয়। কিন্তু সেই আলাপের ফাঁকে বাংলাদেশের দর্শকদের মনে নিশ্চয়ই উঁকি দেয় আরেকটি নাম, সাব্বির রহমান। পরক্ষণেই নিশ্চয়ই আক্ষেপের ধূসর মেঘে ছেয়ে যায় পুরো হৃদয়।
এ কথা সত্য, জাকের আলি ছক্কা হাঁকানোতে ওস্তাদ। টি-টোয়েন্টিতে ৩৫টি ইনিংস খেলে ৩৮টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন জাকের। সেদিক থেকে সাব্বির ৪৭ ইনিংসে ছক্কা হাঁকিয়েছেন ২৯টি। তফাৎ স্পষ্ট। তবুও কোন কোন ক্ষেত্রে সাব্বিরকে এগিয়ে রাখা যায় অনায়াসে। ৯২টি চার আছে সাব্বিরের নামের পাশে। অন্যদিকে জাকেরের চার ৩৪টি।

শট সিলেকশন, শটের রেঞ্জ- সবকিছুতেই এখনও এগিয়ে আছেন সাব্বির রহমান। তিনি হয়ত চাইলেই জাকেরে চাইতে ভাল ফিনিশার হতে পারতেন। তার সেই সক্ষমতা ছিল বটে। কিন্তু নিজের অবহেলায় সেই সুযোগ পায়ে ঠেলেছেন সাব্বির রহমান। ২০১৬ এশিয়া কাপে তিনি একাই তো হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের পরম আশা-ভরসার জায়গা।
কিন্তু জাকের ঠিক যতটা প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করেছেন এশিয়া কাপ। ততটাও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারছেন না। বরং ওয়ান ডাইমেনশনাল ব্যাটিং কোন কোন ক্ষেত্রে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেদিক থেকেও সাব্বির হতে পারতেন বেটার চয়েজ। উইকেটের চারিদিকে শট খেলার সক্ষমতা ছিল সাব্বিরের। তাছাড়া তার ব্যাটিং লিটন দাসের উচ্চতার নান্দনিক না হলেও, যথেষ্ট দৃষ্টিনন্দন ছিল বটে।

তাইতো জাকের আলিদের উত্থান যতটা না আনন্দ জোগায়, সাব্বিরের হারিয়ে যাওয়া তার থেকেও করুণ বেদনার সুর তোলে। আক্ষেপগুলো ঘনিভূত হয়ে বর্ষণের অপেক্ষা বাড়ায়। কিন্তু সাব্বির রহমানের ব্যাটের ঝঙ্কার আর ওঠে না।











