সাব্বির রহমান হারিয়ে যাননি, সাব্বির রহমান ফুরিয়ে যাননি। ছন্দে থাকলে নিজের দিনে তিনি আজও বাংলাদেশের সেরা পাওয়ার হিটার, প্রমাণ হল আরও একবার।
রাজশাহীতে বৃষ্টি শেষ হতে না হতেই সাব্বির রহমানের ব্যাটে ঝড় উঠলো। এনসিএলের উদ্বোধনী ম্যাচেই ১৫ বলে ৩৩ রানের ইনিংস খেলে আক্ষেপের উত্তাপটা বাড়িয়ে দিলেন বোধহয়। স্ট্রাইক রেট ছিল ২২০!
শেষ ওভারে তিন ছক্কা হাঁকিয়ে মনে করিয়ে দিলেন সাব্বির ফুরিয়ে যাননি এখনও। এশিয়া কাপের মঞ্চে পাওয়া হিটিংয়ে যখন ব্যর্থ বাংলাদেশ, তখন পুরনো সেই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা হয়ে হাজির হল সাব্বির রহমানের এই অভাবনীয় ঝড়।

আজকের ম্যাচের আগে শিরোনামে ছিলেন না সাব্বির। অবশ্য নিয়মিত তাঁকে নিয়ে আফসোস ছাড়া আর কোনো আলাপও হয় না। তবে মাঝে মাঝে সুযোগ পেলেই ব্যাট হাতে নিজেকে আলোচনায় নিয়ে আসেন, ভক্তদের আনন্দে ভাসান। যেন সেই ভিন্টেজ সাব্বির রহমান।
এনসিএলের দ্বিতীয় আসরের প্রথম দিন, সকাল থেকে বৃষ্টির হানা। ২০ ওভারের ম্যাচ কমে দাঁড়ালো মাত্র পাঁচ ওভারে। টসে জিতে ঢাকা মেট্রোর অধিনায়ক বেছে নিলেন বোলিংটা। হাবিবুর রহমান সোহান এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সূচনাটা একদমই আশানুরূপ হলো না। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন শান্ত। ১৪ রানের মাথায় তিন উইকেট হারিয়ে ফেলা রাজশাহীর কপালে তখন চিন্তার ভাঁজ।
তবে ত্রাতা হয়ে ক্রিজে এলেন সাব্বির রহমান। ব্যাট হাতে চিরচেনা আক্রমণাত্মক মেজাজ। দলের আটকে যাওয়া রানের চাকা সচল করলেন, শেষপর্যন্ত ১৫ বল খেলে করেন অপরাজিত ৩৩ রান। ২২০ স্ট্রাইক রেটের সাথে হাঁকিয়েছেন তিন ছক্কা আর এক চার।

এখনও যে তাঁর পাওয়ার হিটিং ভক্তদের চোখের প্রশান্তি আনে। আজকের ম্যাচেও তেমনই এক ক্লাইম্যাক্স দেখালেন। ঘরের মাঠে দলকে এনে দেন ৬০ রানের পুঁজি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে সূচনাটা দুর্দান্ত করেন ঢাকা মেট্রোর দুই ওপেনার নাইম শেখ এবং মাহফিজুল ইসলাম রবিন। নাইম সাত রানের মাথায় ফিরে গেলেও রবিন একপ্রান্তে দলকে আগলে রাখেন। ১২ বলে ৩০ রানের বিদ্ধংসী এক নক খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। তাঁর কল্যাণেই ঢাকা মেট্রো জয় তুলে নেয় সাত উইকেট হাতে রেখেই।
বৃষ্টি বাগড়ায় সূচনাটা ভালো হলো না এনসিএলের। তবে সাব্বির রহমানের ব্যাটে ভক্তদের আক্ষেপের স্ফুলিঙ্গ কিছুটা হলেও বাড়লো আর অন্য প্রান্তে রবিনের ব্যাটে নতুন কিছুর আভাস পাওয়া গেল।












