অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ যখন ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছিল, তখনই আবির্ভাব হলো শাহীন শাহ আফ্রিদির। যেন হঠাৎ করেই ঝড় হয়ে নেমে এলেন। একে একে ভেঙে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারের মেরুদণ্ড। চালকের আসনে বসে থাকা অজিদের টেনে নামিয়ে ছুড়ে ফেললেন অনিশ্চয়তার গভীর খাদে।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে শাহীনকে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন নিজের ভেতরের সবচেয়ে ভয়ংকর সত্তাটাকেই জাগিয়ে তুলেছেন। আগ্রাসন আর শিকারের গন্ধ যেন লেপ্টে ছিল প্রতিটি ডেলিভারিতে। নতুন বলে শুরু থেকেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, আজ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন এক পরীক্ষা।
ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই আঘাত হানলেন এদিনও। ম্যাথিউ শর্টকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে এনে দেন স্বপ্নের শুরু। অস্ট্রেলিয়ার স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র শূন্য রান, অথচ হারিয়ে ফেলেছে প্রথম উইকেট। সেই মুহূর্তেই ম্যাচের ছন্দ বদলানোর বীজ বপন করে দেন শাহীন।

১১৯ রানে তিন উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ক্রিজে দাঁড়িয়ে আছেন ৬৫ রান করা জশ ইংলিস। বিপদ ঘনীভূত হয়ে আসছে একটু একটু করে। পাকিস্তানের উইকেট চায়, কে এনে দেবে?
অজি কাপ্তানকে ফেরাতে বল হাতে তুলে নিলেন পাকিস্তান কাপ্তান। ২৭তম ওভারের প্রথম বলেই তুলে ফেললেন গলার কাঁটা। তবে ক্ষান্ত দিলেন না তাতেও। তিনি যে শিকারের নেশায় মাতোয়ারা তখন।
ইংলিসের বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আসে আরেকটি ধাক্কা। একই ওভারের চতুর্থ বলে ক্যামেরন গ্রিনের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেন শাহীন। যে দল কিছুক্ষণ আগেও বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল, তারা হঠাৎই পড়ে যায় চাপে। আর সেই চাপের সবচেয়ে বড় নির্মাতা শাহীন।

এরপর আর মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহস পায়নি অস্ট্রেলিয়া। যাওয়া-আসার মিছিলে ব্যস্ত হয়ে যান বাকিরা। শেষমেষ গুটিয়ে যায় মাত্র ১৫৭ রানেই। আর শাহীনের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় আট ওভারে ৩০ রান খরচা করে মহাগুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট।
আগের ম্যাচেও তিনি নিয়েছিলেন তিন উইকেট। সিরিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও আবার তুলে নিলেন তিন শিকার। বড় মঞ্চে, বড় চাপের ম্যাচে, বড় ব্যাটারদের বিপক্ষে নিজের সেরাটা বের করে আনার যে ক্ষমতা, সেটিই শাহীনের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর ওটাই ফিরিয়ে এনেছে পাকিস্তানের গতি।










