পাসপোর্ট দেখালেই অ্যালকোহল!

পানীয় অর্ডার দিতে গেলেই আপনার কাছে চাওয়া হবে আসল পাসপোর্ট। পাসপোর্ট ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক দর্শককে অ্যালকোহল দেওয়া হবে না।

বিশ্বকাপের আসরে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার পাশাপাশি গলার তৃষ্ণা মেটাতে ফিরে আসছে অ্যালকোহল। তবে তা পেতে হলে আন্তর্জাতিক দর্শকদের শুধু টিকেট থাকলেই হবে না, দেখাতে হবে নিজের পাসপোর্টও। 

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামের ভেতর অ্যালকোহল পানের ওপর ছিল কঠোর নিষেধাজ্ঞা, যা মাঠে বসে খেলা দেখতে যাওয়া অনেক দর্শককে হতাশ করেছিল। তবে এবারের গ্রীষ্মে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মাঠে ফিরছে সেই বিয়ারের চুমুকে খেলা দেখার সুযোগ। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে আছে কিছু কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা।

আপনি যদি অন্য কোনো দেশ থেকে এই বিশ্বকাপের খেলা দেখতে যান, তবে শুধু আইডি কার্ড বা ম্যাচের টিকেট দেখিয়ে দিয়ে বিয়ার কেনা যাবে না। স্টেডিয়ামের কনসেশন স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে পানীয় অর্ডার দিতে গেলেই আপনার কাছে চাওয়া হবে আসল পাসপোর্ট। পাসপোর্ট ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক দর্শককে অ্যালকোহল দেওয়া হবে না।

বিয়ার হাতে গ্যালারিতে উল্লাস করার এই নিয়মটি যেমন আনন্দের, তেমনই তৈরি করে পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলার এক প্রচ্ছন্ন ঝুঁকিও। তবে ফিফা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই নিয়ম দর্শকদের মাঝে এক ধরণের দায়িত্বশীলতা তৈরি করবে। পকেটে পাসপোর্টের মতো মূল্যবান নথি থাকলে দর্শকেরা নিজের অজান্তেই মদ্যপানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখবেন।

শুধু পাসপোর্ট চেকই নয়, গ্যালারির শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরও কিছু নিয়ম যোগ করা হয়েছে। একজন দর্শক একবারে সর্বোচ্চ দুটি পানীয় কিনতে পারবেন এবং হাফ-টাইমের পর আর কোনো স্পিরিট বা ককটেল বিক্রি করা হবে না। ফলে ইচ্ছে করলেই কেউ অতিরিক্ত মদ্যপান করে গ্যালারিতে বিশৃঙ্খলা করতে পারবেন না।

ফুটবল মানেই এক উন্মাদনা, সেখানে বিশ্বকাপ হলে তো আর কথাই নেই। ম্যাচ উপভোগ করার ফাঁকে অ্যালকোহলের কারণে শৃঙ্খলার গন্ডি থেকে দর্শক যেন বের হতে না পারেন তাই এমন নিয়ম করেছে আয়োজকরা। ফুটবল উপভোগের আনন্দ হোক, তবে তা হোক নিজের দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link