মাস্টারের শিখরে জাদুকরের ঝুলন্ত কাঁধ

বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানকে? এই প্রশ্নের অনেক বিতর্ক হতে পারে, তবে শেষ অবধি একটা নাম ঘুরে ফিরে আসবেই। তিনি হলেন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। এর শচীনকে বাইশ গজে খুব কম বোলারই নিয়মিত ভোগাতে পেরেছেন। একসময় ক্রিকেট দুনিয়ার বাঘা বাঘা ব্যাটারদের শাসন করলেও শচীন টেন্ডুলকারের বিপক্ষেই যেন মাঠের চূড়ান্ত লড়াইটা জিততে পারেননি শেন ওয়ার্ন।

বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানকে? এই প্রশ্নের অনেক বিতর্ক হতে পারে, তবে শেষ অবধি একটা নাম ঘুরে ফিরে আসবেই। তিনি হলেন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। এর শচীনকে বাইশ গজে খুব কম বোলারই নিয়মিত ভোগাতে পেরেছেন। একসময় ক্রিকেট দুনিয়ার বাঘা বাঘা ব্যাটারদের শাসন করলেও শচীন টেন্ডুলকারের বিপক্ষেই যেন মাঠের চূড়ান্ত লড়াইটা জিততে পারেননি শেন ওয়ার্ন।

স্পিনারদের বিপক্ষে শচীন বরাবরই ভালো খেলতেন। তবে শেন ওয়ার্ন ছিলেন ক্রিকেট দুনিয়ার বিস্ময়! কিন্তু শচীন অবশ্য এসবের ধার ধারেননি। যার কারণে পুরো ক্যারিয়ারে ওয়ার্ন স্রেফ শচীনকেই ভয় পেতেন।

১৯৯৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শচীন টেন্ডুলকারের সেই দাপুটে ইনিংসের পর শেন ওয়ার্ন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘স্বপ্নে এসেও শচীন ছক্কা মারেন।’  সেই বহুল আলোচিত ও নস্টালজিয়ায় ভরা টেস্ট ম্যাচের স্মৃতিতে ফেরা যাক তাহলে।

মার্চ ৬, ১৯৯৮। চেন্নাইয়ে সিরিজের প্রথম টেস্ট মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার নয়ন মঙ্গিয়া ও নভজ্যেৎ সিং সিধুর ফিফটির পরেও মাত্র ২৫৭ রানে আটকে যায় ভারতের প্রথম ইনিংস। ওই ইনিংসে ওয়ার্নের বলে মাত্র ৪ রানেই ফিরেন টেন্ডুলকার।

ওয়ার্ন একাই শিকার করেন ৪ উইকেট। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ইয়ান হিলির ৯০ ও মার্ক ওয়াহ, গ্যাভিন রবার্টসনের ফিফটিতে ৩২৮ রান করতে সক্ষম হয় অজিরা। ভারতের পক্ষে চার উইকেট নেন অনিল কুম্বলে।

প্রথম ইনিংসে ৭১ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নেমে মঙ্গিয়া দ্রুত ফিরলেও আরেক ফিফটি তুলে নেন সিধু। ব্যক্তিগত ৬৪ রানে সিধু ফিরলে জুটি বাঁধেন রাহুল দ্রাবিড় ও শচীন টেন্ডুলকার। তৃতীয় উইকেটে দু’জনের ১১৩ রানের জুটি ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় অজিদের। দ্রাবিড়ের পর শচীন ও তুলে নেন ব্যক্তিগত ফিফটি!

ওই দিনের শুরুতে রবি শাস্ত্রীর কাছে পরামর্শ চান শচীন। প্রথম ইনিংসে ওয়ার্নের বলে আউট হওয়ায় লেগ স্পিনারের বিপক্ষে আরও ভালো করার প্রত্যয় নিয়ে শাস্ত্রীর কাছে ধরনা দেন শচীন। শাস্ত্রী পরামর্শ দিলেন, ‘ওয়ার্নের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ব্যাট করো।’

ওই ইনিংসের আগে টানা চারদিন ভারতীয় লেগ স্পিনার লক্ষ্মণ শিভারামকৃষ্ণানকে নিয়ে নেটে অনুশীলন করেন শচীন! আর এই অনুশীলনেই যেন অন্য এক শচীনের দেখা মিলল।

দ্বিতীয় ইনিংসে শচীন ব্যাট করতে নামার পরই অজি অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ বোলিংয়ে আনলেন ওয়ার্নকে। এরপরই ওয়ার্নের উপর শুরু শচীনের ম্যাজেস্টিক এক ইনিংস! ২৮৬ মিনিট ব্যাট করে ১৯১ বলে ১৪ ও চার ছক্কায় ১৫৫ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন শচীন! শচীনের দুর্দান্ত সেই ইনিংসে ৪ উইকেটে ৪১৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত।

৩৪৮ রানের বড় টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬৭ রানেই গুড়িয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। শচীন দাপটে ওই ম্যাচে ১৭৯ রানের বড় জয় পায় ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসেও অনিল কুম্বলে শিকার করেন ৪ উইকেট। শচীনের ১৫৫ রানের ওই ইনিংসটি এখনও সর্বকালের অন্যতম সেরা ইনিংসের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

১৯৯২ সালে শেন ওয়ার্নের অভিষেক। আর ওয়ার্নের অভিষেক ম্যাচেই শচীন খেলেছিলেন ১৪৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। দু’জনের দেখা হয়েছিলো ১২ টেস্টে! এর মধ্যে ওয়ার্নের বিপক্ষে শচীনের ব্যাটিং গড় ৫৮। ওয়ার্নের বিপক্ষে করেছেন ৯৯৮ রান! করেছেন পাঁচটি সেঞ্চুরি!

টেস্টে শচীনকে মাত্র তিনবার আউট করার সুযোগ হয়েছে ওয়ার্নের, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে সংখ্যাটা মাত্র চারবার! ১৯৯৯ সালে অ্যাডিলেডে শচীনের উইকেট শিকারের পর ওয়ার্ন বলেছিলেন, ‘ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দামি উইকেটটা পেলাম!’ সত্যিই তাই!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...