২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের নানা দুশ্চিন্তার একটি নাজমুল হোসেন শান্তর অফফর্ম। অনেকেই হয়ত ফর্ম আছে এমন দাবি তুলতে পারেন। সেখানে প্রভাবক হবে দ্বাদশ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে শান্তর দারুণ যাত্রা। শতক হাঁকানো, দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করা এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়া- ফর্ম তো তার তুঙ্গে। কিন্তু এখানেই বারংবার ভুলটা হয়- ফরম্যাটের তফাৎ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলে।
বাস্তবতা হচ্ছে গত একটা বছরে ভয়াবহ দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তকে। ২০২৫ সালে খুব বেশি ম্যাচ বাংলাদেশ খেলেনি ওয়ানডে ফরম্যাটে। তবুও ১১ খানা ম্যাচে শান্ত ছিলেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। সেই ১১টি ইনিংসে শান্তর ব্যাট থেকে এসেছে মোটে ২১৭ রান।
এই ২১৭ রান তুলতে গিয়ে তিনি স্রেফ একটাবারই পঞ্চাশ রানের গণ্ডি টপকাতে পেরেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৭ রান এসেছিল শান্তর ব্যাট থেকে। এই পুরোটা সময় জুড়ে তার ব্যাটিং গড় স্রেফ ১৯.৭২। স্ট্রাইকরেট ৬৫.৯৫। এমন নিদারুণ বাজে অবস্থাকে কোনভাবেই বিপিএল পারফরমেন্সের প্রলেপ দেওয়া সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে শান্তর রোলটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। নম্বর তিন কিংবা চারে তার উপর থাকে গুরুদায়িত্ব। ইনিংস বিল্ডআপ থেকে শুরু করে পরবর্তী ব্যাটারদের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করার কার্যভার থাকে শান্তর উপরে। তার অফফর্ম তাই স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তার খোরাক জোগাবে।
তবে আশার কথা হল, শান্তর হাতে রয়েছে পর্যাপ্ত সময়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজন করতে চলেছে বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্ট। সেখানে নর্থ জোনের অধিনায়কত্ব সামলাতে হবে তাকে। এই টুর্নামেন্টও তিনি নিশ্চয়ই জিততে চাইবেন অধিনায়ক হিসেবে। কিন্তু তার থেকেও বেশি চেষ্টা করবেন ওয়ানডেতে আবারও রানের ধারায় ফেরা।
এরপরই যে ঘরের মাঠে আসতে চলেছে পাকিস্তান। তাদের বিপক্ষেও তো শান্তর দিকে থাকবে বাড়তি নজর। অন্যদিকে তার ভাল ফর্ম দলের জন্য আরও একটি কারণে ভীষণ জরুরি। মেহেদী হাসান মিরাজের অধিনায়কত্ব নিয়ে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সেই অনাস্থার প্রবল সমাধান হিসেবেই শান্ত বিবেচিত হতে পারেন। সেজন্য তার ব্যাটে রানের ধারাবাহিকতা থাকা প্রয়োজন।

যেমনটি ছিল ২০২৩ ও ২০২৪ সালে। ওই দুই বছরে তিন খানা সেঞ্চুরি, নয় খানা হাফসেঞ্চুরি এসেছিল তার ব্যাট থেকে। ২০২৩ সালে গড় ছিল ৪০ এর ঘরে। ২০২৪ সালে পাঁচ ম্যাচ খেলা শান্তর গড় ছাড়িয়ে গিয়েছিল ৭০ এর কোটা। ওই ছন্দময় শান্তকে ছাড়া বিশ্বকাপে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য হতে পারে বিপত্তির কারণ।











