অস্ট্রেলিয়ার জন্য ছিল একপ্রকার বাঁচা-মরার লড়াই। সেই ম্যাচে এক পাথুম নিসাঙ্কার সামনে অসহায় হয়ে পড়ল অজিরা। গ্রুপ পর্ব থেকেই ঘটতে পারে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়। ওমানের বিপক্ষে ম্যাচটা হতেও পারে স্রেফ নিয়ম রক্ষার।
হারলে সমীকরণের মারপ্যাঁচে পড়ে বাদ যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। এমন দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে প্রথমে ব্যাটিংয়ের নামে অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ আর ট্রাভিস হেড এদিন এলেন ত্রাতা হয়ে। বিপদের মুহূর্তে কাণ্ডারি হয়ে দুইজনই তুলে নেন ফিফটি। ১০৪ রানে ভাঙে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটি।
তখন থেকেই নিশ্চয়ই বিশাল সংগ্রহের দিকেই ছিল অস্ট্রেলিয়ার মনোযোগ। কিন্তু দ্রুত বেশ কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরে শ্রীলঙ্কা। তবুও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ছিলেন আপন ছন্দে। তার ক্যাচ ফেলে দিয়ে বিপদ বাড়িয়েছিলেন পাথুন নিসাঙ্কা। আবার সেই নিসাঙ্কাই দুর্ধর্ষ ক্যাচে ফেরান ম্যাক্সওয়েলকে। তাতে করে বেঁচে থাকে শ্রীলঙ্কার ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন।

তবে বিপর্যয়ের পরও স্কোরবোর্ডে ১৮১ রান তুলে ফেলে অজিরা। এতবড় লক্ষ্যমাত্রা এর আগে ঘরের মাঠে টপকাতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। সুতরাং চ্যালেঞ্জটা ছিল নিজের রেকর্ড ভেঙে নতুন করে গড়ার। এমন এক ম্যাচে পাথুম নিসাঙ্কা বনে গেলেন হিংস্র সিংহ। অস্ট্রেলিয়ার দম্ভকে প্রতিটি শটে তিনি করেছেন চূর্ণ।
৫২ বলে শতক হাঁকান নিসাঙ্কা। এটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি। এছাড়া কুশল মেন্ডিসও তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। ইনফর্ম রাত্নানায়েকে শুধু সঙ্গ দিয়েছেন নিসাঙ্কাকে। তাতেই আট উইকেটের বিশাল জয় লেখা হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার নামের পাশের। এই জয়ের সুপার এইট নিশ্চিত শ্রীলঙ্কার।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াকে এখন তাকিয়ে থাকতে হবে জিম্বাবুয়ের দিকে। নিজেদের শেষ ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে জয়ও তাদেরকে ছিটকে দিতে পারে বিশ্বকাপ থেকে। কেননা তিন ম্যাচে দুই পয়েন্ট নিয়ে তারা আছেন তিন নম্বরে। অন্যদিকে দুই ম্যাচের দুইটি জিতে জিম্বাবুয়ের অবস্থান দুই নম্বরে।

রানরেটের হিসেব নিকেশেও জিম্বাবুয়ে ঢের এগিয়ে। বাকি থাকা দু’টি ম্যাচের যেকোন একটি জিতলেই জিম্বাবুয়েকে আর চিন্তা করতে হবে না রানরেট নিয়ে। ছয় পয়েন্ট নিয়ে চলে যাবে পরের রাউন্ডে। এখন দেখবার পালা শেষ অবধি অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্যে কি জোটে।











