স্পিডগান নাহিদ রানা!

ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে গ্রেট স্টিভেন স্মিথ। বোলিং প্রান্তে নাহিদ রানা। কি করবেন তিনি, সময়ের সেরা মহাতারকাকে আটকানোর জন্য কোন রণকৌশলটা বেছে নেবেন নাহিদ? এমন সব প্রশ্নের জবাবে, নাহিদ যেটা করলেন সেটা দেখে অবাক তাকিয়ে থাকতেই হবে, অবাক হতে আপনি বাধ্য।

ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে গ্রেট স্টিভেন স্মিথ। বোলিং প্রান্তে নাহিদ রানা। কি করবেন তিনি, সময়ের সেরা মহাতারকাকে আটকানোর জন্য কোন রণকৌশলটা বেছে নেবেন নাহিদ? এমন সব প্রশ্নের জবাবে, নাহিদ যেটা করলেন সেটা দেখে অবাক তাকিয়ে থাকতেই হবে, অবাক হতে আপনি বাধ্য।

নবম ওভার, বল হাতে এসিড টেস্ট দিতেই এসেছিলেন নাহিদ রানা। তবে পাশার দান নিজেই উল্টে দিলেন। মূলত পরীক্ষার্থী বানিয়ে ছাড়লেন স্মিথকে। টানা চার বল চারটাই ডট। কোনটা ইয়োর্কার তো কোনটা বাউন্সার, সাথে গতির ভ্যারিয়েশন। শর্ট বল কিংবা গতির সাথে যাদের বেড়ে ওঠা সেই স্মিথকে পরাস্ত করলেন বুদ্ধি খাটিয়ে। বারবার তেড়েফুড়ে গিয়েও কোন জবাব দিতে পারেননি স্মিথ। পঞ্চম বলে স্কুপ করে একটা চার আদায় করলেন ঠিকই তবে অ্যাসিড টেস্টে নাহিদ ততক্ষণে ফুল মার্কস পেয়ে পাশ করেছেন।

প্রচলিত আছে ফার্স্ট বোলাররা কখনো ফার্স্ট বোলারদের কখনো বাউন্সার ছোড়ে না। নাহিদ রানা সেটাকে ভেঙে ফেললেন মোহাম্মদ ওয়াসিম বিপক্ষে। ১৮ তম ওভারে এসে পা রাখে মাত্রই তাঁকে স্বাগত জানালেন ১৪৭.৫ গতির বাউন্সার দিয়ে। সে যাত্রায় কোন মতে মুখ-চোখ বাঁচিয়ে নিলেন ওয়াসিম। এর আগে অবশ্য আরাফাত মিনহাসকে তুলে নিয়েছেন ১৪৮.৮ গতির বাউন্সার ছুড়ে। এমন স্পিডগানের সামনে দাঁড়ানো মানেই যে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনা।

নাহিদের ম্যাজিকটা বাকি ছিল তখনও। ১৯ তম ওভারে এসে রীতিমতো আনপ্লেয়বল হয়ে গেলেন নাওয়াজ-ওয়াসিমদের সামনে। বলটাকে যেন ব্যাটে লাগানোটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তখন। ১৯ তম ওভারে একজন বোলার এসে মাত্র দুই রান দিচ্ছেন, এটাই তো একটা বিস্ময়। তার সাথে উপরি হিসেবে ওয়াসিমের উইকেটটাও তুলে নিলেন।

শেষটাতে বোলিং ফিগার দাঁড়াল চার ওভারে ২৪ রানের বিনিময়ে দুই উইকেট। নাহিদ এখন আর সাধারণ কোন বোলার নয়, বিস্ময়ে পরিণত হয়েছেন। তাই তো ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার ডমিনিক কর্ক বলেই ফেলেছেন, ‘নাহিদ বিশ্ব ক্রিকেটের এক অমূল্য সম্পদ। তাকে খুব যত্নে, সঠিকভাবে ম্যানেজ করতে হবে। দয়া করে তার খেয়াল রাখুন।’

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link