একটা ক্যাচ মিস শ্রীলঙ্কার মসৃণ পথকে রীতিমতো কঠিন করে তুললো। কুশল পেরেরা-দুশমন্থ চামিরাদের নায়োকচিত মুহূর্ত এক পলকেই মলিন হয়ে গেল। আফগানিস্তানকে এনে দিল জয়ের পুঁজি।
শুরতে অবশ্য ভিন্ন গল্প বেঁধেছিলেন শ্রীলঙ্কান ফিল্ডাররা। দূরন্ত সব ক্যাচ নিয়ে ম্যাচের চিত্রটা নিজেদের করে নিয়েছিলেন। কুশল পেরেরা-দুশমন্থ চামিরাদের চোখজুড়ানো ক্যাচগুলো তখন প্রশংসার সর্বোচ্চ পর্যায় অতিক্রম করেছে।
যার সূচনাটা হয়েছিল ইনিংসের তৃতীয় ওভারের মাথায়। অভিজ্ঞ পেরেরার বিশ্বস্ত হাত গুরবাজকে দেখিয়েছিল সাজঘরের পথ। ম্যাচের ১১তম ওভারে আবারও কুশল পেরেরার হাত খুঁজে নিল রাসুলির মারা বল। এবারেরটা আরও বেশি দুর্দান্ত।

বয়সের ছাপ চোখেমুখে থাকলেও পেরেরা রীতিমতো উড়ন্ত বাজপাখি হয়ে ডিপ থার্ড অঞ্চলে রাসুলির নিশ্চিত ছয়টাকে তালুবন্দি করলেন। তবে মুহূর্তেই বুঝলেন হারিয়েছেন ভারসাম্য। শেষ মুহূর্তে বলটা ওপরে ছুড়ে দিয়ে মাঠের বাইরে গিয়ে আবার ফিরে এসে বলটা ধরলেন। আফগানদের স্বপ্নভাঙার সূচনাটা হলো।
এরপর ১২ ওভার শেষে ৭৯ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে আফগানরা তখন অসহায় অবস্থায়। তাঁদের ভরসা তখন ক্রিজে থাকা ইব্রাহিম জাদরান। ২৪ রান করে যেন লঙ্কানদের গলার কাঁটা হয়ে বিধে আছেন তিনি। তবে বেশিক্ষণ আর টিকতে পারলেন না।
১৩তম ওভারের প্রথম বলে ওয়েলালাগের বল লং অনের উপর দিয়ে মারতে উদ্দত হলেন। টাইমিংটা মন্দ হলো না তবে দুশমন্থ চামিরা যেন বাতাসে উড়েই বদলে দিলেন দৃশ্যপট। স্প্রিন্টারের মতো দৌড়ে এসে মাথার উপর দিয়ে ভেসে যাওয়া নিশ্চিত ছয়টাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে নিলেন।

এমন সব অবিশ্বাস্য ক্যাচ নিয়ে যখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা তখনই ওয়েলালাগে করলেন ভুল। ১৬.২ ওভারের মাথায় ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে ফেলে দেন মোহাম্মদ নবির ক্যাচ। ৬ বলে ৫ রান নিয়ে দিশেহারা নবি তখন একটা পথ খুঁজছিলেন। সেই পথটাই দেখিয়ে দিলেন ওয়েলালাগে।
এরপর পুরো গল্পটার প্লট নিজের নামে লিখলেন নবি। জীবন পাওয়ার পরের ১৬ বলের সর্বোচ্চ ব্যবহার করলেন, তুললেন ৫৫ রান। শেষ পর্যন্ত তাঁর ২২ বলে ৬০ রানের ইনিংসের সুবাদে আফগান স্কোরবোর্ডে রান দাঁড়ালো ১৬৯। যেটা শেষ হতে পারতও ১৩০-এর আগেই।
একটা ভুলের খেসারত কতটা ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে পারে তা দেখল লঙ্কানরা। ক্যাচ মিস মানে ম্যাচ মিস, ক্রিকেটের এই চিরন্তন সত্য আরও একবার ফলবে না তো শ্রীলঙ্কার ভাগ্যে!












