ফিরে এসেছেন নেতা

২০১৮ সালে স্যান্ডপেপার কাণ্ডের পর শুধু অধিনায়কত্বই নয় দল থেকেও বাদ পড়েছিলেব অজি তারকা স্টিভ স্মিথ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) থেকে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবার দলে ফিরলেও ভবিষ্যতে অধিনায়কত্বের সুযোগ যে পাবেন না সেটাও অনেকটাই নিশ্চিত ছিলো। তবে স্মিথ যেন চেয়েছিলেন আবার সব ভুল মুছে ফেলে অধিনায়ক হিসেবে অজিদের নেতৃত্ব দিতে। সেটি পূরণ হলো চলতি অ্যাশেজেই। প্যাট কামিন্সের অনুপস্থিতিতে অ্যাডিলেডে গোলাপি বলের টেস্টে অধিনায়কত্বের সুযোগ পান স্মিথ।

স্মিথ সবসময়ই বলে আসছেন অজিদের সমর্থকদের সাপোর্ট তিনি পেয়েছেন শুরু থেকেই। অধিনায়কত্ব থেকে অব্যাহতি, দল থেকে বাদ পড়া, স্যান্ডপেপার কাণ্ড সবমিলিয়ে দু:সময়ে সমর্থকদের পাশে পেয়ে সব কাটিয়ে শুরু করতে পেরেছেন নতুন রূপে। ২০১৮ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরেছিলেন কলঙ্ক গায়ে! আর তিন বছর বাদে অ্যাডিলেডে অধিনায়ক হিসেবেই আবার দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্মিথ।

টিম পেইন অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাওয়ায় গত মাসেই টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব পান প্যাট কামিন্স। আর ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় স্মিথকে। এরপর অ্যাডিলেড টেস্টের আগে জানা যায় করোনা রুগির সংস্পর্শে আসায় খেলতে পারবেন না কামিন্স। অধিনায়কত্ব পাওয়া নিয়ে স্মিথ বলেন, ‘আমি ঘুম থেকে উঠেই দেখি প্যাটের দুই মিসড কল ও ল্যাঙ্গারের মেসেজ। মেসেজে লেখা, ‘স্মিথ তুমি কি উঠেছো?’ এরপই স্মিথ জানতে পারেন এই টেস্টে অধিনায়ক হিসেবেই নামতে যাচ্ছেন তিনি!

স্মিথ বলেন, ‘প্যাটির অবর্তমানে আমি চাচ্ছিলাম নেতৃত্ব দিতে। চাচ্ছিলাম শেষ সপ্তাহে যেখানে প্যাটি শেষ করেছে (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ উইকেটের জয়) সেখান থেকেই আবার শুরু করতে। আমি ভবিষ্যতেও প্যাটির সাথে কাজ করবো। তাকে অধিনায়ক হিসেবে গড়ে তুলতে সবরকম সহযোগিতাই করবো।’

অবশ্য টস করতে যাওয়ার সময়ও বিপাকে পড়েন স্মিথ! ছিলেন অপ্রস্তুত! হুট করেই অধিনায়কত্ব পাওয়ায় অধিনায়কের ব্লেজারও তৈরি ছিলো না স্মিথের! পরবর্তীতে কামিন্সের ব্লেজার পড়েই টস করতে যান তিনি। অবশ্য কামিন্সের বড় সাইজের ব্লেজার ফিট ও হচ্ছিল না স্মিথের গায়ে!

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ৪৭৩ রানের মধ্যে লাবুশেনের সেঞ্চুরি ও ডেভিড ওয়ার্নারের ৯৫ ছাড়াও ব্যাট হাতে ৯৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন স্মিথ। অধিনায়ক হিসেবে নিজের দায়িত্বটা ঠিকঠাক পালন করেন এই তারকা। তবে মাত্র ৭ রানের আক্ষেপে সেঞ্চুরি মিস করেন তিনি। চলতি টেস্টে এখন পর্যন্ত চালকের আসনেই আছে অজিরা।

২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে ক্যামেরায় দেখা যায় স্যান্ডপেপার বলে ঘষার পর অজি ওপেনার ক্যামেরন ব্যানক্রফট সেটি ট্রাউজারে ফেলে দেন! এরপরই ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় বেশ হৈচৈ সৃষ্টি হয়। প্রেস কনফারেন্সে স্মিথ অবশ্য স্বীকারও করলেন নিজেদের দোষের কথা। ওয়ার্নারের কথাতেই ব্যানক্রফট এমন কান্ড করেন, আর এ ব্যাপারে সম্পূর্ণটাই জানতেন স্মিথ। এরপরই অধিনায়কত্ব থেকে অব্যাহতি ও দল থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে। ওয়ার্নার, স্মিথরা ফিরলেও আর দলে ফিরতে পারেননি ব্যানক্রফট।

অধিনায়ক হিসেবে তাই এই নতুন শুরু স্মিথের। পূর্বের সমালোচনা, কলঙ্ক পেছনে ফেলে অধিনায়ক হিসেবে আবার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই তারকা। ঘরের মাটিতে সমর্থকদের সামনে অজিদের জয়টাই এখন স্মিথের মূল লক্ষ্য। অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রত্যাবর্তনটা রাজকীয় করতে চাইবেন এই অজি তারকা।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link