অপরিপক্ক শরীরে পরিণত ক্রিকেট মস্তিষ্ক

বৈভব সুরিয়াভানশি কি শুধু আগ্রাসী? না, তিনি বরং দায়িত্বশীল, তিনি পরিণত। অপরিপক্ক মস্তিষ্কে, পরিপক্কতার বিচরণ। 

বৈভব সুরিয়াভানশি কি শুধু আগ্রাসী? না, তিনি বরং দায়িত্বশীল, তিনি পরিণত। নিজের আগ্রাসনের উপর যে তার পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে- তা দেখালেন চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে। বেশ হিসেব কষে রান তুলেছেন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছুই করেননি। অপরিপক্ক মস্তিষ্কে, পরিপক্কতার বিচরণ।

৩৩ বলে ৫৭ রান করেছেন সুরিয়াভানশি। প্রায় ১৭৩ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি নিশ্চয়ই ধীরগতির বলার উপায় নেই। বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন আট খানা। এর মধ্যে চারটি ছক্কা, আর বাকি চারটি চার। অতএব বাউন্ডারি তিনি আদায় করেছেন। পাশাপাশি সুরিয়াভানশি দৌড়ে রান নিয়েছেন আরো ১৭ টি।

এখানেই মূলত তার পরিপক্ক ক্রিকেট মস্তিষ্কের চিত্র পরিষ্কার হয়েছে। এবারই প্রথম তিনি খেলতে নেমেছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। উন্মাদনা ছিল, স্নায়ুচাপ ছিল, সেই সাথে কিছু করে দেখানোর তাড়নাও ছিল। সে কারণেই তাকে শুরু থেকেই আগ্রাসী হতে দেখেছে সকলে। আগ্রাসনের বুলেট ট্রেনে চেপে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানও বনে গেছেন তিনি।

বেশ খানিকটা পথ পাড়ি দেওয়ার পর সুরিয়াভানশির হয়ত মনে হয়েছে – ‘না, আমাকে দেখাতে হবে আমি ছোট হলেও ক্রিকেটের দুনিয়ার জন্যে প্রস্তুত’। সে প্রমাণের ইচ্ছে থেকেই তিনি বেশ দায়িত্বশীল ও বুদ্ধিদীপ্ত একটা ইনিংস উপহার দিলেন চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে।

দলের প্রয়োজন বুঝে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। দৌড়ে রান নিয়েছেন। রানের চাকা স্তিমিত হতে দেননি। আউট হওয়া বলটা সহ মোটে আটটি বল ডট খেলেছেন। শতকরা হিসেবে ২৪ শতাংশ বলে কোন রান নিতে পারেননি বা নেননি। একজন কৈশোর না পেরোনো ব্যাটারের কাছ থেকে এমন দারুণ ব্যাটিং চমকপ্রদ নি:সন্দেহে।

এই বয়সেই যে তিনি আগ্রাসনের সাথে বুদ্ধির মিশেল ঘটাতে পারছেন – সেটাই বরং তার প্রতি প্রত্যাশা কয়েকগুণ  বাড়িয়ে দিল। তবে তার উচিত এসবে মাথা না ঘামিয়ে নিজের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। কেবল তবেই ভারতের ব্যাটিং গ্রেটদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে তিনিও হয়ে উঠবেন পরবর্তী গ্রেট।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link