সাদা পোশাকের সাধক

দুর্দান্ত অভিষেকের পর অকালেই ঝরে গেছে কত কত ফুল। কিন্তু, তার মাঝেও এমন এমন ক্রিকেটার আছেন যারা কিনা বছরের পর বছর ধরে দলে খেলে গেছেন, পারফর্ম করে গেছেন। অফ ফর্ম, দল থেকে বাদ পড়া এসব যেন তাঁদের ছুঁয়েই যায়নি।

দলে সুযোগ পাওয়ার চেয়ে দলে টিকে থাকাই কঠিন – ক্রিকেটের এই নিখাঁদ সত্যির প্রতিফলন টের পেয়েছে কত কত ক্রিকেটার। ঘরোয়া ক্রিকেটের কতশত বাঘ তো টিকতেই পারেননি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

দুর্দান্ত অভিষেকের পর অকালেই ঝরে গেছে কত কত ফুল। কিন্তু, তার মাঝেও এমন এমন ক্রিকেটার আছেন যারা কিনা বছরের পর বছর ধরে দলে খেলে গেছেন, পারফর্ম করে গেছেন। অফ ফর্ম, দল থেকে বাদ পড়া এসব যেন তাঁদের ছুঁয়েই যায়নি। আমরা আজকে সাদা পোশাকে খুঁজে বের করেছি এমনই একঝাঁক ক্রিকেটার যারা দীর্ঘ সময়ে খেলে গেছেন দলে।

  • অ্যালিস্টেয়ার কুক (ইংল্যান্ড) – ১৫৯ টেস্ট

অ্যালিস্টেয়ার কুক তাঁর পুরো ক্যারিয়ারে টেস্ট খেলেছেন মোট ১৬১ টি। এই ১৬১ টেস্টের মধ্যে ১৫৯ টিতেই কোন বিরতি ছিল না। অফ ফর্ম, ইনজুরি কোন কিছুই কুককে ইংলিশ লায়ন্সের সাদা পোশাকের শিবির থেকে বাদ দিতে পারেনি।

২০০৬ এর মে থেকে ২০১৮ এর সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের হয়ে একটা টেস্টও মিস করেননি কুক, খেলেছেন ১৫৯ টেস্ট। কিছুদিন আগেই তিনি ইংল্যান্ডের সম্মানজনক নাইটহুড উপাধি পেয়েছেন। নিজের খেলা শেষ টেস্টেও তিনি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন । এতে অবশ্য একটা অনন্য রেকর্ড করে ফেলেছেন তিনি। নিজের খেলা প্রথম ও শেষ টেস্টে সেঞ্চুরি করা পঞ্চম ব্যাটসম্যান তিনি।

  • অ্যালান বোর্ডার (অস্ট্রেলিয়া) – ১৫৩ ম্যাচ

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা একজন অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার। মাঠের অধিনায়কত্বে নিজের মাথাকে সবচাইতে বেশি খাটাতে পারতেন তিনি, প্রতিপক্ষের নাগালে চলে যাওয়া ম্যাচও ছিনিয়ে নিয়ে আসতে পারতেন স্রেফ অধিনায়কত্বের জোরে। অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮৭ বিশ্বকাপেও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

তবে, শুধু অধিনায়ক হিসেবেই না, ব্যাটসম্যান হিসেবেও এই বাঁ-হাতি ছিলেন দুর্দান্ত। টেস্টে আছে ১১ হাজারের ওপর রান, ওয়ানডেতে ৬ হাজার। সবচাইতে অবাক করা ব্যাপার, নিজের খেলা ১৫৬ টেস্টের ১৫৩টিই তিনি খেলেছেন টানা। ১৯৭৯ এর মার্চ থেকে ১৯৯৪ এর মার্চ অব্দি অস্ট্রেলিয়ার খেলে একটা টেস্টও মিস করেননি তিনি।

  • মার্ক ওয়াহ (অস্ট্রেলিয়া) – ১০৭ টেস্ট

অ্যালান বোর্ডারের পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে ভরসা করার মত আরেকজন অধিনায়ক খুঁজে পেয়েছিল- মার্ক ওয়াহ। এই অলরাউন্ডার টেস্ট ক্রিকেটে করেছেন ৮০২৯ রান, নিয়েছেন ৫৯ উইকেট। এতটুকুতেই স্টিভ ওয়াহর জমজ এই ভাইয়ের কীর্তি থেমে যায়নি।

৩ জুন, ১৯৯৩ থেকে ১৯ অক্টোবর, ২০০২ অবধি তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টানা ১০৭ টেস্টে মাঠে নেমেছেন। অবসরের পর মার্ক ওয়াহ কিছুদিন অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক প্যানেলে কাজ করেছেন, আর এরপর ধারাভাষ্যেই পূর্ণ মনোযোগ দেন। এখনও সেটাই করছেন স্কাই স্পোর্টস সহ নানা টিভি চ্যানেলের হয়ে।

  • সুনীল গাভাস্কার (ভারত) – ১০৬ টেস্ট

সুনীল গাভাস্কারকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন। সত্তর ও আশির দশকে টেস্ট ক্রিকেট দাপিয়ে বেড়ানো এই ব্যাটসম্যান ছিলেন দশ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক ছোঁয়া প্রথম কোন ব্যাটসম্যান। শুনতে যতটা সহজ লাগছে, গাভাস্কারের কাজ কিন্তু ছিল এর চাইতেও কঠিন।

ওই সময়ে পিচগুলো কাভারে ঢাকা হত না, ব্যাটসম্যানদের প্রোটেক্টিভ গিয়ারও দেওয়া হত না। রান করা তাই একটু কঠিনই ছিল। এর মাঝেও নিজের খেলা ১২৫ টেস্টের ১০৬ টিতেই তিনি খেলেছেন কোন বিরতি না নিয়ে। ১৯৭৫ এর জানুয়ারী থেকে ১৯৮৭ এর ফেব্রুয়ারী, একটা টেস্টও মিস করেননি তিনি।

  • ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (নিউজিল্যান্ড) – ১০১ টেস্ট

তালিকার এই নামটি দেখে চমকে যেতে পারেন। আগের সবাই যেখানে অনেক পুরনো কালের ক্রিকেটার, সেখানে আধুনিক কালের ক্রিকেটে টানা টেস্ট ম্যাচ খেলাদের তালিকায় ব্রেন্ডন ম্যাককালামই একা অনন্য। মার্চ,২০০৪ থেকে ফেব্রুয়ারী, ২০১৬- লম্বা এই সময়ে ব্ল্যাকক্যাপদের খেলা কোন টেস্ট বাদ দেননি তিনি।

ছিলেন মারমার কাটকাট ক্রিকেটের এক অনন্য বিজ্ঞাপন- তবুও সাদা পোশাকের ক্রিকেটের প্রতি কিউই এই ক্রিকেটারের ভালবাসা ছিল দেখার মত। টেস্ট ক্যারিয়ারটাও নেহায়েৎ মন্দ নয় ম্যাককালামের- ২ সেঞ্চুরি আর ৩১ হাফ সেঞ্চুরিতে ৬৪৫৩ রান। এমনকি টেস্টের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটাও তাঁর দখলে, অস্ট্রেলিয়ার সাথে সে ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন মাত্র ৫৪ বলে।

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...