মাঠে স্লেজিং, সীমানার বাইরে আগুন — ম্যাকগ্রা-সারওয়ানের সেই লড়াই!

মাঠে তখন রীতিমতো যুদ্ধাবস্থা! আম্পায়ার ও সতীর্থরা এসে পরিস্থিতি সামলান, কিন্তু সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে। স্লেজিং ছিল, আছে, থাকবে—কিন্তু ম্যাকগ্রা-সারওয়ানের সেই তপ্ত বাক্যবিনিময় ইতিহাস হয়ে গেছে চিরদিনের জন্য!

শুধু ব্যাট বলে নয়, ক্রিকেটটা কখনও মুখেও খেলা যায়। ক্রিকেটের মাঠে স্লেজিং নতুন কিছু নয়। কিন্তু ২০০৩ সালের অ্যান্টিগা টেস্টে গ্লেন ম্যাকগ্রা ও রামনারেশ সারওয়ানের যে যুদ্ধ হয়েছিল, সেটাকে শুধু স্লেজিং বলা যাবে না—এটা ছিল রীতিমতো মহারণ!

গ্লেন ম্যাকগ্রা, নিজের সময়ের সেরা পেসারদের একজন। নব্বই দশকে তিনি ছিলেন গ্রেটনেসের চূড়ায়। তাঁর বোলিংয়ের উপর ভর করেই অসংখ্য ম্যাচ নিজেদের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

শুধু বল হাতেই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেন না, মুখ দিয়েও চালিয়ে যেতেন ধারালো আক্রমণ। অন্যদিকে, ক্যারিবিয়ান ব্যাটার রামনরেশ সারওয়ান ছিলেন শান্ত-সৌম্য, তবে লড়াইয়ের ময়দানে ঠিকই ঝাঁজ দেখানোর মানুষ। ঘটনা ২০০৩ সালের বিখ্যাত অ্যান্টিগা টেস্টের।

প্রতিপক্ষকে উস্কানি দেয়াটা ততদিনে ম্যাকগ্রার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে সফরকালীন অ্যান্টিগাতে ক্যারিবিয়ান রামনারেশ সারওয়ানকে বিরক্ত করতে থাকেন ম্যাকগ্রা। দ্বিতীয় ইনিংসে উইন্ডিজরা চার উইকেট হারিয়ে ২৩৭ রান করে। তবুও সারওয়ান তাঁর দলকে কক্ষপথে রাখার চেষ্টা করছিলেন।

উইকেটে ছিলেন সারওয়ান, উইন্ডিজ দল তখনও ম্যাচে টিকে থাকার লড়াই করছে। এমন সময় ম্যাকগ্রা এগিয়ে এসে ছুঁড়ে দিলেন সেই বিতর্কিত বাক্যবাণ— ‘ব্রায়ান লারার (গোপন) অঙ্গের স্বাদ কেমন?’

সারওয়ান ছিলেন ধীরস্থির, কিন্তু এত সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। তাকেও দিতে হলো পাল্টা শট — ‘আমি জানি না। তোমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করো।’

ব্যস! আগুনে যেন আরও ১০ লিটার তেল পড়ল। ম্যাকগ্রার স্ত্রী তখন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছিলেন, সেই প্রসঙ্গ টেনে আনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অজি পেসার। তেড়ে গেলেন সারওয়ানের দিকে, রাগে চোখ মুখ লাল করে বললেন — ‘তুমি যদি আমার স্ত্রীর নাম আরেকবার উচ্চারণ করো, তাহলে তোমার জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলব!’

মাঠে তখন রীতিমতো যুদ্ধাবস্থা! আম্পায়ার ও সতীর্থরা এসে পরিস্থিতি সামলান, কিন্তু সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে। স্লেজিং ছিল, আছে, থাকবে—কিন্তু ম্যাকগ্রা-সারওয়ানের সেই তপ্ত বাক্যবিনিময় ইতিহাস হয়ে গেছে চিরদিনের জন্য!

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link