চতুর্থ ইনিংসে লারা বনাম শচীন

ব্রায়ান লারা ও শচীন টেন্ডুলকারের চতুর্থ ইনিংস স্ট্যাট খুঁজে দেখলাম। যেহেতু শুধু এই দুজনের মধ্যে তুলনা, তাই শুধু ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্লেয়ারদের লিস্ট করেছি, ৮৯ থেকে। তাই অন্য কারওর নাম নেই, বা স্ট্যাট ইনকমপ্লিট দেখে অবাক হবেন না।

ব্রায়ান লারা ও শচীন টেন্ডুলকারের চতুর্থ ইনিংস স্ট্যাট খুঁজে দেখলাম। যেহেতু শুধু এই দুজনের মধ্যে তুলনা, তাই শুধু ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্লেয়ারদের লিস্ট করেছি, ৮৯ থেকে। তাই অন্য কারওর নাম নেই, বা স্ট্যাট ইনকমপ্লিট দেখে অবাক হবেন না।

  • জেতা ম্যাচে

জেতা ম্যাচের সংখ্যা লারার ১৪, শচীনের তার দ্বিগুণ, ২৮। লারার গড় ৮১, শচীনের ৫৯.৬! দুজনেরই একটি করে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি। লারার হাফ সেঞ্চুরি দু’টি, শচীনের চারটা।

কিন্তু, দ্বিগুণ ম্যাচ খেললে দ্বিগুণ রান ও সেঞ্চুরি হাফ সেঞ্চুরি হওয়াই উচিত। প্লাস, লারা অপেক্ষাকৃত দুর্বল ব্যাটিং লাইন আপ এর সদস্য ছিলেন। তাই লারা এখানে এগিয়ে। নির্দ্বিধায়।

  • ড্র ম্যাচে

এখানেও লারার চেয়ে শচীন দ্বিগুণ ম্যাচ খেলেছেন। যথাক্রমে লারা ১০, শচীন ২০! শচীনের ড্র ম্যাচে চতুর্থ ইনিংসে গড় ৫২, লারার ২১! শচীনের একটি সেঞ্চুরি, লারার সেঞ্চুরি নেই, একটি হাফ সেঞ্চুরি। এখানে শচীন লারার থেকে অনেকটাই এগিয়ে।

বিশেষ করে শচীনের একটি সেঞ্চুরি (১১৯*) যা ম্যাচ ড্র করতে সাহায্য করেছিল। লারার এরকম ইনিংস সম্ভবত নেই। এই স্ট্যাট আমাকে চমকে দিয়েছে। আমি লারার স্ট্যাট আরো ভালো আশা করেছিলাম।

  • হারা ম্যাচে

লারা আর শচীন প্রায় সমসংখ্যক হারা টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করেছেন। লারা ২৭, শচীন ২৬! লারার রান ও গড় দুইই শচীনের থেকে বেশি। লারা ৩০+ গড়ে ৮২৪ রান করেছেন, শচীন ২৩ গড়ে ৫৯৮ রান।

দুজনেরই একটি করে সেঞ্চুরি। লারার চারটা হাফ সেঞ্চুরি, শচীনের হাফ সেঞ্চুরি তিনটি। শচীনের সেঞ্চুরিটি মহাকাব্যিক ১৩৬ যা একটুর জন্য জয়ের মুখ দেখেনি। তবে হারা ম্যাচে লারা এগিয়ে।

সুতরাং জেতা এবং হারা ম্যাচে চতুর্থ ইনিংসে লারা শচীনের তুলনায় ভালো পারফর্ম করেছেন। শচীন তুলনায় ড্র এর ম্যাচে ভালো খেলেছেন। এটা থেকে একটা জিনিষ স্পষ্ট, লারা ড্র করায় হয়তো খুব বিশ্বাসী ছিলেন না। জেতার চেষ্টা করতে গিয়ে হেরে যাওয়া বেটার, কিন্তু ড্রয়ের জন্য খেলব না, এই অ্যাপ্রোচ এর ফলে এই স্ট্যাট কিনা, সেটা বিশেষজ্ঞরা বলতে পারবেন।

তুলনায় হারা ম্যাচ ড্র করিয়ে দেবার খেলা শচীন বেটার খেলেছেন লারার তুলনায়। তবে শচীনের তিনটি ক্ষেত্রেই সেঞ্চুরি আছে, লারার ড্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো সেঞ্চুরি নেই।

সব মিলিয়ে দেখলে শচীন ৬০ টি চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করে ৩৬.৯৩ গড়ে ১৬২৫ রান করেছেন। লারা সেখানে ৪৫ টি চতুর্থ ইনিংস ব্যাটিং করে ৩৫.১ গড়ে ১৪০৪ রান করেছেন। দুজনেরই ৭ টি হাফ সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির সংখ্যায় শচীন একধাপ এগিয়ে। তিনটি সেঞ্চুরি শচীনের, লারার দু’টি।

বাকিটা? আপনারাই বলুন। সব মিলিয়ে কাকে এগিয়ে রাখবেন?

আমার মনে হয় লারা হয়তো সামান্য এগিয়ে। নিষ্পত্তি হয়েছে এমন ম্যাচে বেশি ইমপ্যাক্ট এর কারণে এবং অধিকাংশ সময়ে দুর্বলতর দলের হয়ে খেলার জন্য। যদিও শুধু গড়, রান, ১০০/৫০ এসব দেখলে  শচীন কে এগিয়ে রাখতে ইচ্ছে হতেও পারে।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link