টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা একাদশ!

বিশ্বকাপ মানেই ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পাতায় যাঁরা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের নিয়েই আজকের আলোচনা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা একাদশ।

সময়ের মারপ্যাচে বদলে গেছে ক্রিকেটের ভাষা, বদলে গেছে দর্শকদের প্রত্যাশা। টেস্টের ধৈর্য, ওয়ানডের ভারসাম্য ছাপিয়ে গেছে ধুমধুমার ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট। সেই ফরম্যাটের সবচেয়ে বড় মঞ্চ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, আরও একবার দরজায় কড়া নাড়ছে। বিশ্বকাপ মানেই ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পাতায় যাঁরা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের নিয়েই আজকের আলোচনা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা একাদশ।

প্রথমেই আসবে ক্রিস গেইলের নাম। এই ফরম্যাটের একক সম্রাট। ব্যাট হাতে বোলারদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। বিশ্ব আসরে তাঁর পরিসংখ্যানটাও বেশ সমৃদ্ধ তার। বিশ্বকাপের মঞ্চে ৩০ ম্যাচ খেলে করেছেন ৯৪০ রান, ব্যাটিং গড় ৩৬, স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৪৫। শুধু তাই নয়, একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে দুই সেঞ্চুরির মালিক তিনি, আছে সাতটিও ফিফটিও।

গেইলের ওপেনিং পার্টনার হিসেবে থাকবে জশ বাটলারের নাম। দিনের দিনে কি করতে পারেন বাটলার তা সবারই জানা। তবে বিশ্বকাপে তিনি হাজির হতেন ভিন্ন রূপে। সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটার তিনি। ২০ ম্যাচে প্রায় ৫৫ গড় আর ১৫১ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ৭০৮। নামের পাশে রয়েছে এক সেঞ্চুরি আর চার ফিফটি। বিশ্বকাপে ৫০-এর উপর গড় ধরে রাখা একমাত্র ওপেনার তিনিই।

তিন নম্বরে বিরাট কোহলি। ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করতে সিদ্ধহস্ত যিনি। বিশ্বকাপে ব্যাটিং গড়টা প্রায় ৬০-এর কাছাকাছি। ২০১৪ এবং ২০১৬-তে হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরাও। চার নম্বরে কেভিন পিটারসান। নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনে প্রতিপক্ষের সমস্ত পরিকল্পনা একাই ভেস্তে দিতে পারেন যিনি। প্রায় ৪৫ গড় আর ১৫০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন বিশ্বকাপে।

ছয়ে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ব্যাট হাতে রানের গতি বাড়াতে যার জুড়ি মেলা ভার। আবার দলের প্রয়োজনে বল হাতেও রাখতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অলরাউন্ডার হিসেবে থাকবেন সাকিব আল হাসান। ৮৫০-এর উপরে রান, সাথে ৫০ উইকেটও আছে বিশ্বকাপে। পরের জায়গাটা শাহিদ আফ্রিদির। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে তাঁর নাম।

স্পিনার হিসেবে সামুয়েল বাদ্রির নাম আসবে সবার আগে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিশ্বকাপ জেতাতে তিনিই রেখেছিলেন অগ্রণী ভূমিকা। পেসার হিসেবে ট্রেন্ট বোল্ড, যিনি পাওয়ার প্লে-তে একাই দুমটে মুছড়ে ফেলতে পারেন প্রতিপক্ষকে। সঙ্গী হিসেবে পাবেন ওমর গুলকে। সেই সাথে পেস আক্রমণকে আরও খুরধার করতে থাকবেন এনরিখ নরকিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট যে তার দখলে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link