এমন সিদ্ধান্ত আসারই কথা ছিল, পঞ্চপান্ডবের শেষটা হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দিয়ে জানা ছিল সেটা। তবে সাকিব-তামিম আগেই থেমেছেন বিভিন্ন কারণে, এবার মুশফিকুর রহিম বিদায় নিলেন ওয়ানডে ফরম্যাট থেকে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রঙিন পোশাকে তাঁর অধ্যায় শেষ হলো।
সমর্থকদের মন খারাপ, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মন খারাপ তামিম ইকবালের। একেবারে ছোটবেলা থেকে মুশফিকের বন্ধু তিনি, সতীর্থ পরিচয় চাপিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন মুশফিকের কাছের মানুষ। তাই তো এমন দিনে নিজের আবেগ লুকিয়ে রাখতে পারেননি এই ওপেনার, এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন বন্ধুর প্রতি ভালবাসার কথা।
নিজের স্মৃতি টেনে সবার প্রথমে তিনি বলেন, ‘কেউ অবসর নিলে আজকাল অনেকেই স্ট্যাটাস দেয়, কিন্তু এমন একজন অবসর নিয়েছে যার সাথে আমার প্রায় বিশ, পঁচিশ বছরের একটা জার্নি। তাই একটা স্ট্যাটাসে বুঝাতে পারতাম না আমার এখন কেমন অনুভব হচ্ছে।’

মুশফিককে উদ্দেশ্য করে তামিম বলেন, ‘দোস্ত, তোর সাথে আমার খেলা শুরু আন্ডার ফিফটিন থেকে, আমি তোকে দেখছি কিভাবে তুই ধাপে ধাপে এগিয়েছিলি, তুই একটা নরমাল ব্যাটসম্যান থেকে বাংলাদেশের ওয়ান অব দ্য বেস্ট কিভাবে হইসস। অনেক মানুষের হয়তো ওই হার্ড ওয়ার্ক দেখা হয় নাই, কিন্তু আমরা যারা সাথে থাকি আমরা দেখেছি। আমরা হাসাহাসিও করেছি অনেকসময়, যে একটা মানুষ এত কষ্ট করে কিভাবে?’
মি.ডিপেন্ডেবলকে বাংলাদেশ ক্রিকেট মনে রাখবে এমনটা জানিয়ে চট্টলার খান সাহেব বলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে, অধিনায়ক হিসেবে তুই যা করেছিস বাংলাদেশের জন্য, এটা বছরের পর বছর মনে রাখা হবে। আমি আসলেই অনেক বেশি ইমোশনাল হয়ে গিয়েছি, তবে বাংলাদেশ উইল মিস ইউ দিস ইজ ফর সিউর।’

শততম টেস্ট অবশ্যই যেন খেলেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন; তিনি বলেন, ‘তুই এখনো একটা ফরম্যাটে খেলবি, টেস্ট ফরম্যাট। আমি দোয়া করি তুই ভাল করবি। অন্তত একশ টেস্ট খেলবি, যেটা বাংলাদেশের কেউ খেলতে পারেনি। আমি আশা করব তুই অবশ্যই খেলবি।’
অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেন, ‘আমার এখনো মনে আছে পাঁজরের ব্যাথা নিয়ে শ্রীলঙ্কার সাথে তোর সেঞ্চুরির কথা। সেটাই তোর ডেডিকেশন, পরিশ্রমের প্রমাণ; এবং তোর এই মানসিকতা যেকাউকে অনুপ্রাণিত করবে। লাল বলের বাকি দিনগুলোর জন্য শুভকামনা রইলো।’
মুশফিককে ধন্যবাদ দিয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক নাজমুল শান্তও। তিনি বলেন, ‘আমাদের মত লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়ার জন্য ধন্যবাদ মুশি ভাই। আপনার ডেডিকেশন আমাদের জন্য রোল মডেল, বাংলাদেশ ক্রিকেট আপনার অবদান কখনোই ভুলবে না।’
এছাড়া বাকি ক্রিকেটাররাও নিজেদের স্মৃতির কথা জানিয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে। সেই সাথে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদন্ড হয়ে উঠা মানুষটাকে।











