নানা সমালোচনায় জর্জরিত হন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু মাঠে পারফরমেন্সে সকল কিছু ভুলিয়ে দিতে জানেন। পাকিস্তান সিরিজের পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও উইকেট শিকারি তালিকায় নিজের নাম তুলেছেন দাপটের সাথে। ডাচদের ব্যাটিং অর্ডারকে মাথা তুলে দাঁড়াতেই দেননি বাংলাদেশের পেস ইউনিটের অঘোষিত নেতা তাসকিন।
তিন ওভারে ২৫ রান স্কোরবোর্ডে তুলে ফেলেছিল নেদারল্যান্ডস। এরপরই দৃশ্যপটে হাজির হন তাসকিন আহমেদ। এদিন নিজের প্রথম স্পেলের প্রথম বলেই উইকেট শিকার করেন ডানহাতি এই পেসার। ক্ষিপ্রতার সাথে এগিয়ে যেতে থাকা ম্যাক্স ও’ডউডকে পরিণত করেন নিজের শিকারে। শর্ট কাভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডাচ ওপেনার।
এরপর গুণে গুণে আরও তিনটি উইকেট বাগিয়েছেন তাসকিন। আরেক ওপেনার ভিক্রামজিৎ সিংয়ের উইকেটও গিয়েছে তার পকেটে। একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল তাসকিন হয়ত নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার তুলে নেবেন। নিজ কোটার শেষ ওভারের তৃতীয় বলে তিনি ফেরান নোয়াহ কোরেসকে। বাকি থাকা তিন বলে তাসকিনের কাছ থেকে আরও একটি উইকেটই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু শেষ অবধি ফাইফার পাননি তাসকিন।

এশিয়া কাপের আগে তিনি অন্তত নিজের সামর্থ্য প্রমাণের একটা মঞ্চ পেলেন। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে ঘনিভূত হওয়া সংশয়ের জবাবটাও দেওয়ার সুযোগ তিনি পেয়ে গেলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ফিটনেস ইস্যুতে তাসকিন বেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। তাছাড়া ব্যক্তিগত জীবনের নানা কাণ্ড তাসকিনের ফোকাস পয়েন্ট নাড়িয়ে দেওয়ার জন্যে ছিল যথেষ্ট।
কিন্তু সেসবকে পেছনে ফেলে নিজের উন্নতির দিকে ঠিকই চিলের নজর রেখেছিলেন তাসকিন। সেটারই প্রতিফলন যেন ঘটল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। তার কাছ থেকে এমন পারফরমেন্সই প্রত্যাশিত।
উইকেট শিকারের পাশাপাশি বেশ ইকোনমিক্যাল বোলিং প্রদর্শনের দেখাও মিলল তাসকিনের কাছ থেকে। চার ওভারে ২৮ রান খরচা করেছেন। এশিয়া কাপেও তার উপর যে থাকছে ভরসার ভার। তাসকিনের এমন বোলিং পারফরমেন্স নিঃসন্দেহে বাংলাদেশকে দিচ্ছে স্বস্তির আভাস।












