ইনজুরিপ্রবণ বলে এলপিএল খেলবেন না তাসকিন

আবারও সেই পুরনো দৃশ্যের অবতাড়ণা। আবারও ভিনদেশি ফ্যাঞ্চাইজি লিগের প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিতে হল তাসকিন আহমেদকে।

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) খেলতে ডাম্বুলা অরা থেকে প্রস্তাব এসেছিল। টাকার অংকটা কম না। ৭০ লাখ টাকা পেতেন তাসকিন। কিন্তু, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবারও তাঁকে এনওসি বা নো অবজেকশন লেটার দেবে না।

বিসিবির ব্যাখ্যা এখানে পরিস্কার। তাসকিন কিছুটা ইনজুরিপ্রবণ। আর টানা খেলার মধ্যে আছেন। তাঁর ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করা জরুরী।

এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের দলের পেস আক্রমণের প্রাণভোমরাকে নিয়ে খুব বেশি ঝুঁকি নিতে চায় না বাংলাদেশ দল। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ তাসকিনের টানা ম্যাচ খেলার বিপক্ষে। ডান হাতি এই পেসারকে ফিট রাখার স্বার্থেই এনওসি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।

এলপিএল আগামী ৩০ জুলাই শুরু হবে। চলবে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। খেলা না থাকলেও এ সময় চলবে বিসিবির ক্যাম্প। বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপকে সামনে রেখে। এত কিছুর মধ্যেও, তাসকিন বাদে বাকি চারজন এলপিএল খেলার ছাড়পত্র পাবেন।

এর মধ্যে মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কোনো আপত্তি নেই। কারণ, তিনি জাতীয় দলের ভাবনায় নেই। আছেন কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে। মিঠুনের দল গল গ্ল্যাডিয়েটর্সেই আছেন সাকিব আল হাসানও। তিনি সম্ভবত পুরো আসরই খেলবেন।

সাকিব এখন কানাডায় গ্লোবাল লিগ টি-টোয়েন্টি খেলতে ব্যস্ত। সেটা শেষ করে যাবেন শ্রীলঙ্কায়। ফলে, ক্যাম্পের অনেকটাই মিস করবেন। জাতীয় দলের খেলা নেই বলে আপত্তি করছেন না কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহেও।

তাওহীদ হৃদয় বা শরিফুল ইসলামের ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি নেই হাতুরুসিংহে বা বিসিবির। কলম্বো স্টার্স থেকে প্রস্তাব পেয়েছেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।

অন্যদিকে, এখনও কোনও বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ না খেলা হৃদয়কে প্রস্তাব দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জাফনা কিংস। তিনি যাবেন মূলত সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক শোয়েব মালিকের বিকল্প হিসেবে।

আর এশিয়া কাপের বড় অংশ শ্রীলঙ্কাতে। ফলে, আগাম কন্ডিশনের ধারণাও পাওয়া যাবে। এর জন্য বিসিবিকে সবাইকে ছেড়ে দিচ্ছে। ব্যতিক্রম কেবল তাসকিনই।

এই মুহূর্তে জিম আফ্রো টি-টেনে খেলছেন তাসকিন। এবারই প্রথমবারের মত ভিনদেশি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে দেখা মিলছে তাঁর। আর এখানে পারফরম্যান্সও ভাল তাসকিনের।

এর আগে আইপিএলে লখনৌ সুপার জায়ান্টস আগ্রহী ছিল তাসকিনের ব্যাপারে। তবে, জাতীয় দলের খেলা থাকায় যেতে পারেননি তাসকিন। পিএসএলের মুলতান সুলতান কিংবা কাউন্টি ক্রিকেটের ইয়র্কশায়ার চেয়েছিল তাঁকে।

কিন্তু, কোনোবারই বিসিবির এনওসি পাননি তাসকিন। এবারও পাবেন না। আগে কিছু ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন তাসকিন। এবার তাকে কত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে – সেটা এখনও জানায়নি বিসিবি।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link