ফরাসি লিগে আশরাফুলের ৪০ বলে ১১৮!

ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় পৌঁছে গেছেন তিনি। তবে, ব্যাটে মরচে ধরেনি। আজও ব্যাটে ঝড় তুলতে জানেন তিনি। হোক সেটা ভিনদেশের নিতান্তই এক অপেশাদার লিগে।

ইউরোপের দেশ ফ্রান্সের টি-টেন লিগে অভিষেক হয়েছে মোহাম্মদ আশরাফুলের। আর প্রথম ম্যাচেই আশরাফুল নিজের জাত চিনিয়েছেন।

জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক ৪০ বল খেলে ১১৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দিয়েছেন। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে ১০ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে তার দল এসি সেইন্টস।

প্রবাসী বাঙালিদের আয়োজেন আগে ব্যাটিং করে ভিলেনুভ সুপার কিংস ১৩৭ রান তোলে। জবাবে আশরাফুলের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে ৮.৩ ওভারেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে এসি সেইন্টস।

১০ উইকেটে জয় নিয়ে যখন মাঠ ছাড়ছেন তখনও বল বাকি ৯টি। এর এর কৃতীত্ব পুরোটাই মোহাম্মদ আশরাফুলের। ইনিংসের ‍শুরু থেকে শেষ অবধি ছিলেন তিনি।

ওপেনিং জুটি থেকেই আসে সবগুলো রান। বিনা উইকেটে ১৩৯ রান করে এসি সেইন্টস। সেখানে আশরাফুলের ইনিংস বাদ দিলে বাকি থাকে আর থাকে ২১ রান। এর মধ্যে মালিক শুভ ১২ বলে ১৭ রান করেন। বাকি চার রান আসে অতিরিক্ত খাত থেকে।

৪০ বলে ১১৮ রানের ইনিংস খেলার পথে আশরাফুল ২০টি চার মারেন। সাথে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন চারটি। আশরাফুলের স্ট্রাইক রেট ছিল ২৯৫।

অমিত প্রতিভাবান এই ব্যাটারের সুযোগ ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ব্যাটার হবার। কিন্তু সেই সম্ভাবনা অঙ্কুরেই নষ্ট হয়েছে ফিক্সিং কাণ্ডে। সর্বশেষ জাতীয় দলে খেলেন ২০১৩ সালে।

সেই বছরই নিষিদ্ধ হবার পর মাঠে ফিরেছিলেন আবারো লাল সবুজ জার্সি গায়ে জড়ানোর জন্য। গত চার মৌসুম ধরে ঘড়োয়া লিগে খেললেও জাতীয় দলের বিবেচনায়ই আসেননি আর।

লঙ্গার ভার্সনের ক্রিকেটে নিজের শেষ মৌসুম খেলার অপেক্ষায় আছেন ৩৯ বছর বয়সী আশরাফুল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ১৮৩ ম্যাচ খেলা ‘অ্যাশ’ ২৮.৬৩ গড়ে নয় হাজার ১৯২ রান করেছেন। আছে ২১ টি শতক ও ৪২ টি অর্ধ শতক।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link