চার বছর—ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারে যেন এক মহাকাব্যিক খরা। সেই খরা কেটেছিল গত ম্যাচেই।আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্স মাঠে ফিরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু এবি তখনও ফেরেননি। গ্যালারির কান্না আর ক্যামেরার ফোকাসে ছিল একটাই অপেক্ষা—মোহন বাশির সেই পুরনো সুর, যার প্রতিটি কম্পন শোনালেই বদলে যেত ব্যাট বলের ভাষা।
ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়নসের বিপক্ষে সেই সুরটাই যেন ফিরে এলো। এবি ফিরলেন—না, একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে নয়, তিনি ফিরলেন একজন শিল্পী হয়ে। প্রতিপক্ষ ডুবলো সুরের মায়ায়, দর্শক হারালো নিজেকে- শটে, ছন্দে, স্টাইলে। ৩০ বলে অপরাজিত ৬১ রান! একটা প্রশ্নই ভাসল বাতাসে, প্রিয় এবি, বিদায় কি একটু দ্রুত হয়ে গেলো?
ডি ভিলিয়ার্স ইনিংসকে বিল্ড আপ করেছেন ক্ল্যাসিক ভিলিয়ার্স ধরনে। ইনিংসের শুরুতে টেক্সট বুক কাভার ড্রাইভ, স্ট্রেইট ড্রাইভ, ফ্লিক অব দ্য রিস্ট। কোন তারাহুরো নেই, রান তোলার অহেতুক কোন চাপ নেই। তবুও প্রথম ১০ বল থেকে করলেন ১৪ রান, স্ট্রাইক রেট ১৪০।

২৫ বল পেরিয়ে যেতে স্ট্রাইক রেটও পার হয়ে গেলো ১৫০ এর ঘর। ২৫ বলে ৩৮! শেষ পাঁচ বলে ২৩! যেন শেষরাতে উঠা রাগ মালহার—ঝড় তুলেই স্তব্ধতা। দুর্ভাগ্য, শেষ ওভারে আর একটি বলও পেলেন না। পেলেই হয়তো ইনিংসের ক্যানভাস হত আরও বিস্তৃত।
চ্যাম্পিয়নস নাম নিয়ে খেলতে নামলেও আভিমান্যু মিঠুন কিংবা বিনয় কুমাররা কোয়ালিটিতে ডি ভিলিয়ার্সের থেকে আলোকবর্ষ দূরে। এবি যেন হ্যামিলনের বাশিওয়ালা—প্রতিটা শট এক একটা সুর, এক একটা মায়াময় মোহ। ইন্ডিয়ার বোলাররা সেই সুরে ডুবে আত্মাহুতি দিয়েছেন বারবার। এবির খেলা প্রতিটা বল সাক্ষ্য দিয়েছে—এই লিগের মানের চেয়েও তিনি যোজন যোজন ওপরে।
ক্রিকেটের অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয় না সময়। এবি ডি ভিলিয়ার্স অবসর নিয়েছিলেন অনেকটা হঠাৎই। তাই আজকের এমন ইনিংস দেখলে মনেই হয়—তিনি কি একটু বেশিই তাড়াতাড়ি চলে গেলেন?
সমর্থকেরা আফসোস করতেই পারেন। আবার প্রার্থনাও—যে অন্তত এমন সব লিগেই হোক, ‘দ্য এবি শো’-র পর্দা যেন বারবার ওঠে।











