বাইশ গজে ছেলে দাঁড়িয়ে, অপেক্ষায় রয়েছে বাবা কখন আসবে। বাবা এলেন, হাত মেলালেন, কাঁধের সাথে মিলে গেল কাঁধটাও। এটা যে শুধুই এক আলিঙ্গন নয়, এ যে এক স্বপ্নের মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের(বিপিএল) মঞ্চে হলো এমনটাই। হাসান ইসাখিল একেকটা ছক্কা হাঁকাচ্ছেন অপর প্রান্তে বাবা মোহাম্মদ নবী দাঁড়িয়ে দেখছেন, হাততালি দিচ্ছেন, এ এক অপার্থিব দৃশ্যের মঞ্চায়ন যেন।
অনিশ্চিত পৃথিবীতে কতকিছুই তো ঘটে। বাবার হাত ধরে একটা ছেলে চলতে শেখে, অজানাকে জানে, অচেনাকে চেনা। এমনকি বাবাই তো প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয় জীবনের বাস্তবতার মাঠের সাথে। তবে ক্রিকেট মাঠে বাবার হাত ধরে আসা, একই ক্রিজে দাঁড়িয়ে একই দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে পারফর্ম করা, এমন কিছু কজনের ভাগ্যে জোটে।
তবে এবার দেখা গেল সেটাই। যে বাবার হাত ধরে ক্রিকেট মাঠে প্রথম পা পড়েছিল, সেই বাবার সাথে জুটি বেধে রান করার দৃশ্যটাও ধারণ হলো। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো মঞ্চায়িত হলো বাবা-ছেলের জুটি বেধে ব্যাটিং করার দৃশ্য।

নোয়াখালী এক্সপ্রেস দলে ভিড়িয়েছিল বাবা-ছেলেকে। পেছনে অনেক কথায় হয়েছে। অনেকে সমালোচনা করে বলেছিলেন, নবীর সুপারিশেই কপাল খুলেছে ইসাখিলের। তবে সুযোগ পেয়ে সেই সব সমালোচনার আগুনে পানি ঢেলে দিলেন ইসাখিল।
ম্যাচের আগে বাবার হাতেই ক্যাপটা পরলেন। বিপিএলের মঞ্চে অভিষেকটা হলো, আর সেটা রাঙাতে কোন ভুল করলেন না ইসাখিল। ওপেনিংয়ে নেমে ১৯ তম ওভার পর্যন্ত ব্যাট করলেন। শেষমেষ খেললেন ৬০ বলে ৯২ রানের অনবদ্য ইনিংস। মাঝের সময়টাতে সঙ্গ দিয়েছেন বাবা নবী, দুজনের জুটি থেকে যোগ আসে ৫৩ রান। তবে নবী ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই যবনিকা পতন ঘটে ইসাখিলের ইনিংসেরও।
আট রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ইসাখিলকে। ড্রেসিংরুমের ফেরার পথে সবাই করতালির মাধ্যমে স্বাদরে গ্রহণ করলো তাঁকে। উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানালো, আর সেখানের মধ্যে একজন গর্বিত বাবা মোহাম্মদ নবীও ছিলেন। এমন মুহূর্ত যে হাজার বছর মনে রাখার মতো, ফ্রেমবন্দী করে রাখার মতো।












