কখনো কাটার, কখনো স্লোয়ার, কখনো বা গতির ঝড়—এই মুস্তাফিজুর রহমানকে সামলানোর সাধ্য আছে কার? যেমন কৃপণতা দেখালেন, তেমনই দক্ষ শিকারীর বেশে তিনখানা শিকার ঝুলিতে পুরলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে রীতিমতো ছারখার করে দিলেন সাগরিকায়।
বাংলাদেশ তখন শাই হোপ নামক দুঃসহনীয় জ্বালায় জ্বলছে। প্রতিকার নেই কারও কাছে। অধিনায়ক ফিরিয়ে আনলেন বিশ্বস্ত সৈনিক মুস্তাফিজকে। ৫৫ রানে থামতে হলো হোপকে। ওই ওভারে ফিজ দিলেন মোটে চার রান। তুলে নিলেন গলার কাঁটা হয়ে থাকা ব্যাটারকে।
একটু প্রথম ওভারে আসা যাক। সবাই যখন রান বিলিয়ে যাচ্ছে, মুস্তাফিজ স্রোতের বিপরীতে থাকলেন। উইকেট না পেলেও দিয়েছেন মাত্র ছয় রান। এরপর তাঁর আগমন ঘটে ডেথ ওভারে। ১৮তম ওভার থেকে দিলেন মাত্র ছয় রান। ততক্ষণে অবশ্য বোলারদের সামলাতে না পেরে পর্যদুস্ত হয়ে পড়েছে উইন্ডিজ।

মুস্তাফিজ শেষ চালটা দিলেন শেষ ওভারে। প্রথম বলেই ফেরালেন রোমারিও শেফার্ডকে। পরের আঘাতটা আরও ভয়াবহ। ১৪১.৭ কিমি গতিতে বল ছুড়লেন তিনি খারি পিয়েরের দিকে। পেস বুঝে ওঠার আগেই উপড়ে গেল স্টাম্প। ওই ওভারে দিলেন পাঁচ রান, সঙ্গে দুই উইকেট।
সব মিলিয়ে মুস্তাফিজের স্পেল দাঁড়াল চার ওভারে ২১ রান দিয়ে তিন উইকেট। ইকোনমি রেটটা ৫.২৫। উইকেট তুলবেন অথচ রান দেবেন না—মুস্তাফিজের এমন ব্রতই তো তাকে সেরা বানিয়েছে।
এই যে রানরেট আর উইকেট তোলার কম্বিনেশন, এটা কেবল ফিজের দ্বারাই সম্ভব। কখনো স্লোয়ার, আবার প্রয়োজনে ১৪০ গতির উপরে বোলিং—এই মুস্তাফিজ যে বড্ড আনপ্রেডিক্টেবল, এই মুস্তাফিজ যে সবার সেরা।












