নারী ফুটবলের বৈশ্বিক মঞ্চে নতুন এক মাইলফলক ছুঁয়েছেন ট্রিনিটি রডম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের এই তারকা ফরোয়ার্ড ন্যাশনাল উইমেনস সকার লিগের ক্লাব ওয়াশিংটন স্পিরিট এর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছেন ২০২৮ সাল পর্যন্ত। আর এই চুক্তিই তাকে বানিয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত নারী ফুটবলার।
তার এজেন্ট মাইক সেনকোস্কি এর বরাতে ইএসপিএন জানিয়েছে, রডম্যানের নতুন চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রতি মৌসুমে এক মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। বয়স মাত্র ২৩, অথচ এর মধ্যেই তিনি আমেরিকান নারী ফুটবলের অন্যতম মুখ।
চুক্তি নবায়নের পর ক্লাবের বিবৃতিতে রডম্যান বলেন, ”রুকি মৌসুম থেকে আমরা যে ভিত্তি গড়ে তুলেছি, তা নিয়ে আমি গর্বিত। এই ক্লাব যে পথে এগোচ্ছে, তা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। শিরোপার লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।”

ক্লাবের মালিক মিশেল কাং এর ভাষ্যমতে ট্রিনিটি শুধুমাত্র একজন ফুটবলারই নন, তিনি এই ক্লাব এবং গোটা নারী ফুটবল বিশ্বকেই প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই তাকে নিজেদের ক্লাবে খেলাতে পারা তাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
ট্রিনিটি রডম্যানের পরিচয়ের আরেকটি অধ্যায় জড়িয়ে আছে তার বাবার নামের সঙ্গে। তিনি হলেন বাস্কেট বল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত খেলোয়াড় ডেনিস রডম্যানের কন্যা।
শৈশবের স্মৃতি বলতে গিয়ে ট্রিনিটি জানান, ডেনিস রডম্যানের অস্থির জীবনযাপন থেকে তাকে ও তার ভাইবোনকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন তার মা মিশেল ময়ার। ডেনিস বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড ও নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিল। ২০১২ সালে মিশেল ময়ার ডেনিস রডম্যানকে ডিভোর্স দেন। তখন থেকেই ডেনিস আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেন ডেনিস।

সেই ট্রিনিটি এখন বিশ্বের সবচাইতে দামি নারী ফুটবলার। সময়ের বিবর্তনে কঠিন পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছে যে মানুষকে কতটা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে ট্রিনিটি যেন তার উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত।
বাংলা সাহিত্যে একটি উক্তির বেশ প্রচলন আছে, মানুষ নাকি তার স্বপ্নের সমান বড়। ১৪ বছর আগে বাবার অবিচারে আর্থিক সংকটে ভোগা ট্রিনিটির আজ বিশ্বের সবচাইতে দামি ফুটবলার হওয়ার পেছনে নিশ্চয় জড়িয়ে ছিল এক আকাশ পরিমাণ স্বপ্ন। যা বাস্তবে রূপ দিতে তাকে করতে হয়েছে ব্যাপক সাধনা, পেরোতে হয়েছে শত সহস্র প্রতিকূলতা।










