বাবর আজম ও বিরাট কোহলি এশিয়ার দুই ক্রিকেট মহারথী। তবে শেষ কিছু বছর দুজনেই পার করেছেন কঠিন এক সময়। বিশেষ করে সাদা পোশাকে এই দুই ব্যাটারের শেষ কিছু বছর যেন ক্যারিয়ারের এক কালো অধ্যায়। যার জেরে কোহলি বিদায় জানিয়েছেন এই ফরম্যাট, অন্যদিকে বাবর ভুগছেন চরম ব্যর্থতায়। তাই প্রশ্ন আসে, টেস্টে দুজনের মধ্যে কার ফর্মহীনতা বেশি ভয়াবহ?
২০১৯ সালের আগ পর্যন্ত বনেদি এই ফরম্যাটে বিরাট ছিলেন অনবদ্য। তবে ২০২০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত কোহলির টেস্ট পারফরম্যান্সে বড় ধরনের পতন দেখা যায় তাঁর। ৩৯টি ম্যাচে তিনি মাত্র ২০২৮ রান করেছেন, গড় ৩০.৭৩। এই সময় মাত্র তিনটি শতক এসেছে তাঁর ব্যটে, অর্ধশতকের সংখ্যাটা নয়।
কোহলির মূল সমস্যাটা ছিল মনস্তাত্বিক। স্পিনারদের বিরুদ্ধে তাঁর আত্মবিশ্বাস কমে তলানিতে ঠেকেছিল গড় নেমে এসেছিল ২৫-এর ঘরে। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে প্রায়শই বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন নিজের মূল্যবান উইকেট।

অন্যদিকে বাবর আজমের পতন শুরু হয় ২০২৩ থেকে। তার শেষ টেস্ট শতক ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এরপর ১৪টি টেস্টে তিনি করেছেন ৬৫৫ রান, গড় ২৪.২৬, কোন শতক নেই। অর্ধশতকের সংখ্যা মাত্র তিন। বাবরের পতনের ধরণ অনেকটা কোহলির সঙ্গে মিলে যায়। স্পিনারদের বিরুদ্ধে তিনি আত্মবিশ্বাস হারিয়েছেন এবং বারবার একই ভুলে উইকেট দিয়ে এসেছেন।
কোহলি ও বাবরের পতনের ধরণ অনেকখানি মিল রাখলেও পার্থক্য রয়েছে। কোহলির পতনের সময়ও তিনি কিছু উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেছিলেন, যা ভারতের জয় বা ড্র নিশ্চিত করেছিল। বাবর এখনও তেমন কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি যা দলকে জেতিয়েছে বা ম্যাচ বাঁচিয়েছে। এই পার্থক্যই দেখায় যে বাবরের পতন কোহলির চেয়ে আরও ভয়ংকর।
খারাপ সময় সবারই আসে, তবে যত দ্রুত এই ফর্মহীনতার চক্রব্যূহ থেকে বেরিয়ে আসা যায় ততই শ্রেয়। বাবরের এখন নিজেকে খুঁজে পেতে হবে। দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে সংকটকালীন এই পরিস্থিতি।












