জীবন থেকে হারিয়ে গেছে ৩৮টি বসন্ত। তবুও নশ্বর এই পৃথিবীতে নিজের একটু অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টায়, এখনও অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। এক মাইলফলক যে তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। শততম টেস্ট খেলা প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হওয়ার গৌরব দাঁড়িয়ে আছে ঘরের চৌকাঠে।
মুশফিকের নিজস্ব অভিধান থেকে হয়ত মুছে গেছে ‘ক্লান্তি’ নামক শব্দ। অনেক তো হল, আর কত! এমন দীর্ঘশ্বাস ফেলে মুশফিক বসে পড়েন না। তিনি বরং উঠে দাঁড়ান, দৌড় শুরু করেন যতটুকু সময় হাতে বাকি, তার পুরোটাই রঙিন করতে।
২০০৫ সালে লর্ডসের সবুজ গালিচায় পা রেখেছিলেন মুশফিক। বনে গিয়েছিলেন লর্ডসের বুকে দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ক্রিকেটার। শচীন টেন্ডুলকারের পরে ১৮ বছর বয়সে টেস্ট খেলার কীর্তি গড়েছিলেন মুশফিক। তখনও তার চোখেমুখে কৈশরের ছাপ। এরপর দীর্ঘ দুই দশক ধরে, নিজেকে ভেঙে বারবার নতুন করে গড়েছেন মুশফিকুর রহিম। একটু একটু করে বনে গেছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।

নিজের শততম টেস্টকে সামনে রেখে মাসখানেক আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে তার পরিশ্রম। হোম অব ক্রিকেটের বুকে দৌড়ে বেড়ালেন। এরপর সোজা চলে গেলেন শেরে বাংলা স্টেডিয়াম লাগোয়া ইনডোরে। ব্যাট-প্যাড পড়ে নেমে পড়লেন আরও একবার নিজেকে শাণিত করতে। দুই দশকে সহস্রাধিক অনুশীলনেও যে তিনি খুঁজে নেননি তৃপ্তি।
লম্বা সময় ধরে চলল তার ব্যাটিং অনুশীলন। আগামী ১৯ নভেম্বর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। সেই ম্যাচে মিরপুরে পা রাখা মাত্রই বাংলাদেশের একমাত্র বনে যাবেন মুশফিকুর রহিম। তার আগে অবশ্য শতকের সেই তিন অঙ্কের মাঝে দূরত্ব ঘোচাতে হবে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলতে নামবেন মুশি, সেটা প্রায় নিশ্চিত।
সে কারণেই বেশ আগেভাগেই শুরু হয়ে গেছে মুশফিকের প্রস্তুতি। ব্যাট-প্যাড হয়ত তুলে রাখবেন। তার আগে শেষের অধ্যায়ে অন্তত ব্যর্থতা না যুক্ত হোক, সে কারণে পরিশ্রমের প্রতিমূর্তি মুশফিকের সমস্ত আয়োজন। বয়সকে স্রেফ সংখ্যা গণ্য করে তপ্ত রোদে তিনি অবিচল এক ইস্পাত কঠিন সেনানি।












