আমিরাতের চার রানের আক্ষেপ

শেষ তিন বলে পাঁচ রান নিতে না পারা বেদনাতুর স্মৃতি হয়ে তাড়িয়ে বেড়াবে আসিফ খানকে। তবে এসবের মাঝেও ইতিবাচকতা অনুসন্ধান চাইলেই চালাতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

চার রানের একটা আক্ষেপ পোড়াবে আরব আমিরাতকে। শেষ তিন বলে পাঁচ রান নিতে না পারা বেদনাতুর স্মৃতি হয়ে তাড়িয়ে বেড়াবে আসিফ খানকে। তবে এসবের মাঝেও ইতিবাচকতা অনুসন্ধান চাইলেই চালাতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ত্রি-দেশীয় সিরিজে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেষ ম্যাচ, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত আফগান অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরানের। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ফর্মে রয়েছেন বলেই হয়ত এমন সিদ্ধান্ত। তাছাড়া প্রথম ইনিংসেই হয়ত তারা চেয়েছিল আরব আমিরাতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলতে।

তবে দুই ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও জাদরানের রান তোলার বেশ ধীরলয়ের গতি তেমনটি হতে দেয়নি। কিন্তু তাদের ধীরস্থিরতার উপর প্রলেপ দিয়ে দেন করিম জানাত, গুলবাদিন নাইব ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তাদের ক্যামিও ইনিংসগুলো আফগানিস্তানের স্কোরবর্ডে ১৭০ রানের যথেষ্ট সংগ্রহ জমা করে। গুরবাজ ৩৮ বলে ৪০ এবং ৩৫ বলে ৪৮ করেছিলেন জাদরান।


এরপর করিম জানাত ১৪ বলে ২৮, গুলবাদিন ১৪ বলে ২০ এবং ওমরজাই স্রেফ ৯ বলে ১৪ রান যুক্ত করেন। তাতে করে বেশ সহজ জয়ই পেয়ে যাবে আফগানরা, তেমনটিই হয়ত ছিল তাদের প্রত্যাশা। কিন্তু আরব আমিরাত মোটেও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। ঘরের মাঠের ত্রি-দেশীয় সিরিজে তারা অন্তত একটা জয়ের দেখা পেতে চেয়েছিল খুব করে।

সেই প্রত্যাশার স্বপ্ন পূরণে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দারুণ ফর্মে থাকা মুহাম্মদ ওয়াসিম। এই পুরো সিরিজ জুড়েই তার ব্যাট চলেছে দুর্বার গতিতে। যোগ্য দলনেতার পরিচয় দিয়ে গেছেন তিনি প্রতিটি ম্যাচে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগ্রাসী হয়ে উঠল তার ব্যাট। ২৯ বলে ৪৪ রান হাঁকিয়ে তিনি গোটা দলকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করলেন, চাইলেই এই ম্যাচ জেতা সম্ভব।

সেই বিশ্বাসের অদৃশ্য বলয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বুদ্ধ হলেন আসিফ খান। শেষ ওভারে রোমাঞ্চের জন্ম হয়েছিল তো তারই হাত ধরে। জয়ের জন্যে শেষ ছয় বলে প্রয়োজন ছিল ১৭ রান। কঠিন সমীকরণ। কিন্তু সমীকরণের স্নায়ুযুদ্ধ প্রথম দুই বলেই জমিয়ে তুললেন আসিফ। ফরিদ আহমেদের প্রথম দুই বলে একটি চার ও একটি ছক্কা।


হাতে বাকি চার বল, রান প্রয়োজন সাত। পরের বলে দুই রান নিয়ে আসিফ আরও কমালেন ব্যবধান। তিন বলে পাঁচ রান, তখন খুব বেশি বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছিল বটে। কিন্তু ফরিদের বুদ্ধিদীপ্ততা আর রোমাঞ্চের দারুণ স্নায়ুচাপে কাবু হয়েছেন আসিফ। পরবর্তী দুই বলে কোন প্রকার রানই নিতে পারেননি তিনি।

শেষ বলে তাই শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে ব্যাট চালালেন তিনি। বল সোজা আকাশ পানে উঠে গেলেও দূরত্ব আর পার করতে পারেনি। লং অফের কাছাকাছি জায়গায় তালুবন্দী হন আসিফ খান। এরপর রীতিমত নিজের উপরই ক্ষোভ ঝেড়েছেন তিনি মাঠের মধ্যখানে। ম্যাচটা যে তার হাতেই ছিল, ম্যাচটা তিনি হয়ত চাইলেই জেতাতে পারতেন। লক্ষ্যের খুব কাছ থেকে ফেরার বেদনা বড্ড পীড়াদায়ক।

এই ম্যাচ জিতলে আরব আমিরাত ত্রি-দেশীয় সিরিজের ফাইনালে সুযোগ পেত না। তবে আসন্ন এশিয়া কাপের আগে বেশ ভাল এক মেন্টাল বুস্টার পেত। পাকিস্তান, ভারতের মত কঠিন প্রতিপক্ষদের নাভিশ্বাস তুলে ফেলার জন্যে যা হতে পারত যথেষ্ট। তবে এই পরাজয়ে প্রতিপক্ষের সমীহ ঠিকই আদায় করতে পারল মুহাম্মদ ওয়াসিমও তার দল।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link