আরিফুলকে নিয়ে বিসিবির পরিকল্পনা কি?

আরিফুল ইসলামের সুযোগ মেলেনি। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে আরিফুল ব্যর্থ হলেও তো তার 'লার্নিং গ্রাফ' উর্ধ্বমুখিই হতো। কিন্তু হচ্ছে কি তেমনটা?

আরিফুল ইসলামকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরবর্তী বড় তারকা বলে আখ্যায়িত করেছিলেন তামিম ইকবাল। সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) তিনি ছিলেন তামিমের দল ফরচুন বরিশালে। তারকায় ঠাসা দলটাতে আরিফুলের সুযোগ মেলেনি। একটি ম্যাচেও তিনি মাঠে নামতে পারেননি।

অথচ গত বছর তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাঁচ ম্যাচে প্রায় ৫৮ গড়ে রান তুলেছিলেন তরুণ এই ব্যাটার। এরপর এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টেও তিনি দেখিয়েছিলেন নিজস্ব দ্যুতির ঝলক। প্রথম ম্যাচে ঢাকা বিভাগের হয়ে স্রেফ ৪৬ বলে ৯৪ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন।

এছাড়াও ওই টুর্নামেন্টে ১৪২ স্ট্রাইক রেটে সাত ম্যাচে করেছিলেন ২১৩ রান। এমন একজন ব্যাটারকে ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিকল্পনা বেজায় অস্পষ্ট। বিপিএলে তিনি খেলার সুযোগ পাননি সে দায়ভার অবশ্য বিসিবির নয়। ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক টুর্নামেন্টে দলের পরিকল্পনার উপর বিসিবি সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কিন্তু বিসিবি তো নিশ্চয়ই এই ধরণের প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এই যেমন বাংলাদেশ ‘এ’ দল টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে এই মুহূর্তে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। সেই দলে আফিফ হোসেন ধ্রুব, নুরুল হাসান সোহান, নাঈম শেখদের মত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অভিজ্ঞতা সম্পন্ন খেলোয়াড়রা খেলতে গিয়েছেন। কিন্তু আরিফুল ইসলামের সুযোগ মেলেনি। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে আরিফুল ব্যর্থ হলেও তো তার ‘লার্নিং গ্রাফ’ উর্ধ্বমুখিই হতো। কিন্তু হচ্ছে কি তেমনটা?

আরিফুলকে যে একেবারেই রাডারের বাইরে রেখেছে বিসিবি তা অবশ্য নয়। বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের হয়ে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে খেলেছিলেন। সেই সিরিজে অবশ্য আশানুরুপ পারফরমেন্স তিনি করতে পারেননি। তিনটি একদিনের ম্যাচে সংগ্রহ করেছিলেন ৮২ রান। ২৭.৩৩ গড় খুব একটা সন্তোষজনক নয়, তবে সবচেয়ে দৃষ্টিকটু ছিল তার স্ট্রাইকরেট। স্রেফ ৫৯.৪২ স্ট্রাইকরেটে চলেছে তার ব্যাট।

এরপর দুইটি চারদিনের ম্যাচেও সেই অর্থে কিছুই করতে পারেননি আরিফুল। তিন ইনিংসে কেবল ১৭ রান এসেছিল তার ব্যাট। এ কারণেই কি তিনি উপেক্ষিত? এমনকি বাংলাদেশ টাইগার্স অথবা হাই পারফরমেন্স ইউনিটের মধ্যকার ম্যাচেও তাকে দেখা যায়নি। জাতীয় দলের আশেপাশের ক্যাম্পগুলোতে যদি নিয়মিত সুযোগই তিনি না পান, তাহলে বিকশিত হবেন কি করে?

আরিফুলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার মত নয়। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উচিত ভবিষৎ তারকাদের বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া। ব্যর্থ হওয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের পুনর্বাসন করার প্রয়াশ বরং বাংলাদেশ ক্রিকেটকে পেছনের দিকেই টেনে নিয়ে যাবে।

তাছাড়া আরিফুলদের বিষয়েও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়দি পরিকল্পনার ঝকঝকে ছক কষে ফেলা উচিত। আর কতকাল পরিকল্পনার বলি হয়ে সম্ভাবনার প্রদীপগুলোর অকাল মৃত্যু ঘটবে?

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link