দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আসলেই বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি যেন প্রাণ ফিরে পায়। জ্বলে ওঠে আপন শক্তিতে। তাই তো এশিয়া কাপের ভরাডুবি ছাপিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে স্বমিমায় ফিরে এলেন তানজিদ হাসান তামিম এবং পারভেজ হোসেন ইমন। দুজনে মিলে গড়লেন ১০৯ রানের জুটি।
আফগানিস্তানের দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্য চেজ করতে নামলেন ইমন-তামিম। দুজনে মিলে উড়ন্ত সূচনা এনে দিলেন বাংলাদেশকে। ইমনের ব্যাট থেকে ৫৪ রান, তামিমও ফিফটি পেরিয়ে থামলেন ৫১ রানেই। দুজনেই সমান সংখ্যক ৩৭ বল খেলেছেন। শেষ পর্যন্ত ১০৯ রান এসেছে এই জুটি থেকে।
অথচ দিন কয়েক আগেই এরা ছিলেন ছন্নছাড়া, দিশেহারা। এশিয়া কাপের মঞ্চে ইমনের ব্যাট থেকে চার ইনিংসে এসেছিল মাত্র ৪০ রান। আর তামিমের ব্যাটও আটকে পড়েছিল ফর্মহীনতার অতল গহ্বরে। পাঁচ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৬৭।

আসরের আগে অবশ্য এদের নিয়েই প্রত্যাশা ছিল বেশি। এ বছরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ১১ ম্যাচ খেলে ১৫০ স্ট্রাইক রেটে তামিম করেছিলেন ৩১০ রান। অন্যদিকে ইমনের ব্যাট থেকে ১০ ম্যাচে এসেছিল ২৮৫, স্ট্রাইক রেট ১৫৯। নয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাঁদের জুটি থেকে এসেছিল ২৪৪ রান। এটাই ছিল যেকোনো উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ।
তবে এসব সমীকরণকে পাশ কাটিয়ে ইমন-তামিমরা ব্যর্থতার সমুদ্রে ডুব দিলেন। সাথে বড় মঞ্চে আরও একবার ডোবালেন বাংলাদেশকে। এশিয়া কাপে ইনিংসের গড়াপত্তন করতে মাত্র দুইবারই দেখা গেছে তাঁদের—এক ম্যাচে ২৪ আর পরের ম্যাচে কোন রানই আসেনি। তাই আর ভরসা করা যায়নি তাঁদের উপর। বড় মঞ্চে যাদের উপর বেশি ভরসা করা হয় তারাই ফেল করেন, দেশের ক্রিকেটে এটা এক চিরন্তন সত্য।
তবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এলেই বদলে গেল চিত্র। দুজনের ব্যাটে আবারও দেখা গেল রানের ফোয়ারা। তাঁদের ব্যাটে ভর করেই সিরিজের প্রথম জয় বাগিয়ে নিল বাংলাদেশ। তামিম-ইমনরা বুঝিয়ে দিলেন, এভাবেও ফিরে আসা যায়। তবে প্রশ্নটা, ফিরে এসে লাভতা কি? বড় টুর্নামেন্টে আসলে তো আবারও উল্টে যাবে পাশার দান।












