মীরপুরে দেখা গেল এক অনবদ্য দৃশ্য, বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পেয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন সাব্বির রহমান রুম্মন, এনসিএলে রাজশাহীর হয়ে দলের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়ে করলেন এক রাজকীয় শতক।
সাব্বির রহমানকে আমরা চিনি হিটার হিসেবে। জাতীয় দলে তাঁর কাজটা ছিল সুনির্দিষ্ট। ব্যাট করতে নেমে দ্রুত কিছু রান এনে দেওয়া, ম্যাচের গতি এক ওভারেই বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা। সময় অবশ্য থেমে থাকে না। জাতীয় দলের ভাবনায় সাব্বির নেই অনেক বছর ধরে। ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষবার টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন, আর টেস্ট খেলেছেন তারও আগে, সেই ২০১৮ সালে।
সেই সাব্বিরকেই মিরপুরে এনসিএলের মাঠে দেখা গেল একদম অন্য চেহারায়। খুলনার বিপক্ষে রাজশাহীর হয়ে তিনি খেললেন এক অনবদ্য ইনিংস, পুরোদস্তুর টেস্ট মেজাজে। ২২১ বল খেলে করলেন ১১৩ রান, যেখানে ছক্কা মাত্র একটি আর চার আটটি। যে ব্যাটারের নাম শুনলেই চোখের সামনে বল গ্যালারিতে উড়ে যাওয়ার ছবি ভেসে ওঠে, তাঁর ইনিংসে ছক্কা একটি, ভাবা যায়? কখনো নিখুঁত ডিফেন্স, কখনো এক-দুই রানে স্ট্রাইক ঘোরানো, আর সুযোগ পেলে বাউন্ডারি। বোলারের পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল ছেড়ে দিতে, ব্লক করতে জানা এই সাব্বিরকে অনেকেই হয়তো আগে দেখেননি।

এটা তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পঞ্চম সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিকসহ সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে হিসাব করলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১২। তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানালেন। মুহূর্তটা শুধু একটা সেঞ্চুরির উদযাপন ছিল না। অনেক দিনের অপেক্ষা, অনেক চেষ্টার একটা উত্তর ছিল ওটা।
কারণ চেষ্টাটা তো চলছেই। নানা লিগে সাব্বির রান করে যাচ্ছেন, চেষ্টা করছেন নির্বাচকদের নজরে আসার। বয়স বাড়ছে, তাই হাতে সময়ও কমে আসছে। এই সেঞ্চুরি যেন সেই তাড়াটারই জবাব। এনসিএলের মতো আসরে, লাল বলের লম্বা ইনিংসে তিনি দেখিয়ে দিলেন, সামর্থ্য এখনো ফুরোয়নি। চাইলে তাঁকে আরেকবার সুযোগ দেওয়াই যায়।
জাতীয় দলের দরজা আবার খুলবে কি না, সেটা ঠিক করবেন নির্বাচকেরা। তবে ছক্কার জন্য যাঁকে সবাই চেনে, তিনি যখন ২২১ বল খেলে একটা ছক্কাতেই সেঞ্চুরি তুলে নেন, তখন বোঝা যায় ব্যাটার সাব্বির বদলেছেন। হিটারের তকমাটা অনেক দিনের, এক ইনিংসে তা মুছে যাবে না। কিন্তু সেই তকমার আড়ালে যে একজন পুরো ব্যাটার ছিলেন, মিরপুরে সেটা দেখা গেল। সুযোগের দাবিটা তাই এখন আর শুধু তাঁর একার মুখের কথা নয়, স্কোরবোর্ডেও লেখা আছে। এবার শোনার পালা অন্যদের।











