বিশ্বকাপে থাকছেন ক্লাব ফুটবলের গুরুরাও

আধুনিক ক্লাব ফুটবলে এখন টাকার ছড়াছড়ি। তাই নামি-দামি কোচদের নজরও থাকে ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর দিকেই। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ পাল্টে দিয়েছে সব হিসাব।

আধুনিক ক্লাব ফুটবলে এখন টাকার ছড়াছড়ি। তাই নামি-দামি কোচদের নজরও থাকে ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর দিকেই। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ পাল্টে দিয়েছে সব হিসাব। বিশ্বকাপ ট্রফির টানে জাতীয় দলগুলোতে ফিরেছেন বাঘা বাঘা সব কোচ। তেমনই পাঁচজন কোচকে নিয়ে থাকছে খেলা ৭১ এর আজকের আয়োজন।

  • ইউলিয়ান নাগেলসম্যান (জার্মানি)

দুই বছর আগে ঘরের মাঠে ইউরোর কোয়ার্টারে চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল জার্মানদের। ক্লাব ফুটবলে ফেরার আগে আন্তর্জাতিক ডাগআউটে নাগেলসম্যানের সামনে সম্ভবত এটিই শেষ সুযোগ। মাত্র ৩৮ বছর বয়সী এই কোচ জার্মানিকে তাদের হারিয়ে যাওয়া আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে দিতে বদ্ধ পরিকর।

  • টমাস টুখেল (ইংল্যান্ড)

বায়ার্ন মিউনিখ, চেলসি ও পিএসজির সাবেক বস টমাস টুখেল এখন ইংলিশ ফুটবলের দায়িত্বে। চেলসিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানো টুখেলের প্রোফাইল ভারী হলেও, ইংলিশ ফুটবলের নির্মম সূচি শেষে ক্লান্ত ফুটবলারদের নিয়ে বিশ্বকাপের চরম বৈরী কন্ডিশনে তিনি কতটা সফল হন, সেটাই দেখার বিষয়।

  • মার্সেলো বিয়েলসা (উরুগুয়ে)

মার্সেলো বিয়েলসার সামনে এটিই সম্ভবত বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার শেষ সুযোগ। বাছাইপর্বে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দারুণ শুরুর পর, তার অতি-কঠোর ও নিঁখুত ফুটবল দর্শনের কারণে স্কোয়াডে ফাটল দেখা দিয়েছে।

  • মাউরিসিও পচেত্তিনো (ইউএসএ)

ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে মাউরিসিও পচেত্তিনোর মার্কিন অধ্যায় এখন কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি। স্থানীয় মিডিয়ার সাথে দ্বন্দ্ব এবং মাঠে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে তার পথচলাটা ভালো যায়নি। পচেত্তিনোর অধীনে দল কনকাকাফ নেশনস লিগ বা গোল্ড কাপ জিততে তো পারেইনি, উল্টো ঘরের মাঠে পানামা, মেক্সিকো ও কানাডার কাছে হেরেছে।

  • কার্লো আনচেলত্তি (ব্রাজিল)

ব্রাজিল মানেই এখন নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দেওয়ালের কাছে বারবার থমকে যাওয়া। এই ব্যর্থতা কাটাতেই এবার দায়িত্বে আছে ইতিহাসের অন্যতম সফল ওস্তাদ কার্লো আনচেলত্তি। রেকর্ড পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী এই ইতালিয়ান নকআউট ফুটবলে সিদ্ধহস্ত। রিয়াল মাদ্রিদে তার ছায়াতলে থেকেই ভিনিসিয়াস জুনিয়ররা ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করেছেন।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link