টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ সেরা পিএসজি

উত্তেজনা, নাটকীয়তা আর স্নায়ুযুদ্ধের সবকটি ধাপ পার হয়ে বুদাপেস্টের শেষ হাসি হাসলো প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)।

উত্তেজনা, নাটকীয়তা আর স্নায়ুযুদ্ধের সবকটি ধাপ পার হয়ে বুদাপেস্টের শেষ হাসি হাসলো প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় থাকার পর পেনাল্টি শুটআউটের চরম রোমাঞ্চে আর্সেনালকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ধরে রাখলো ফরাসি জায়ান্টরা।

​ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ফরাসি শিবিরে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল। রেফারির বাঁশি বাজার ঠিক পঞ্চম মিনিটে গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো গানার সমর্থককে উল্লাসে ভাসান কাই হাভার্টজ। লেয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের অ্যাসিস্ট থেকে বল পেয়ে এগিয়ে নিয়ে গোলপোস্টের সাইড থেকে শটে গোল করেন এই জার্মান ফরোয়ার্ড।

বিরতির ঠিক আগে ওসমানে ডেম্বেলে ও ফ্যাবিয়ান রুইজ বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালালেও আর্সেনালের জমাট ডিফেন্স ও গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে ফাঁকি দিতে পারেনি। ফলে গানারদের ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই শেষ হয় হাফটাইম।

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া পিএসজি আক্রমণের ধার বাড়ায়। ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে বক্সের ভেতর পিএসজির উইঙ্গার কাভারাৎসখেলিয়া ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট-কিক থেকে কোনো ভুল করেননি ওসমানে ডেম্বেলে, ঠাণ্ডা মাথার শটে গোল করে পিএসজিকে ১-১ সমতায় ফেরান তিনি।

ডেম্বেলের করা এই গোলটিই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের গতিপ্রকৃতি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে এক্সট্রা ৩০ মিনিটেও আর কোনো গোল করতে পারেনি দুই দল। তাই ট্রফির মালিকানা নির্ধারণে সাহায্য নিতে হয় পেনাল্টি শুটআউটের।

টাইব্রেকারের চরম নাটকীয়তায় প্রথম চার শট শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-৩ সমতায়। পঞ্চম শটে পিএসজির হয়ে লুকাস বেরালদো নিখুঁত গোলে দলকে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। এরপর আর্সেনালকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখার সব চাপ এসে পড়ে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের কাঁধে।

কিন্তু তার নেওয়া শেষ শটটি গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যেতেই মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন আর্সেনালের ফুটবলাররা। পেনাল্টির এই নিষ্ঠুর ভাগ্যে গানারদের আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ হলো, আর ৪-৩ ব্যবধানের জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপ সেরার উৎসবে মাতলো পিএসজি।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link