বাংলাদেশের প্রতি স্কটল্যান্ডের সহমর্মিতা প্রকাশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসরে খেলতে পারা যে কোনো দলের জন্যেই গর্বের বিষয়। কিন্তু নিজ যোগ্যতাবলে না এসে সেই সুযোগ যদি আসে অন্য একটি দলের বাদ পড়ার বিনিময়ে, তখন আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে খানিকটা অস্বস্তি আর সহানুভূতি। ঠিক তেমনই এক বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছে স্কটল্যান্ড ক্রিকেট।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসরে খেলতে পারা যে কোনো দলের জন্যেই গর্বের বিষয়। কিন্তু, নিজ যোগ্যতাবলে না এসে সেই সুযোগ যদি আসে অন্য একটি দলের বাদ পড়ার বিনিময়ে, তখন আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে খানিকটা অস্বস্তি আর সহানুভূতি। ঠিক তেমনই এক বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছে স্কটল্যান্ড ক্রিকেট।

আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এ বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের পর, বাংলাদেশ দলের প্রতি প্রকাশ্য সহমর্মিতা জানিয়েছেন ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্ল্যাড। একই সঙ্গে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, যে প্রক্রিয়ায় স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে, তা কোনোভাবেই আদর্শ ছিল না।

ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় লিন্ডব্ল্যাড বলেন, বাংলাদেশ দলের পরিস্থিতি তারা গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। তার ভাষায়, এই পথে বিশ্বকাপে যাওয়া স্কটল্যান্ডের প্রত্যাশিত ছিল না।

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য একটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা অর্জনের কাঠামো থাকে, এবং কেউই ব্যতিক্রমী বা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রক্রিয়ায় সেখানে পৌঁছাতে চায় না। স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণ যে একেবারেই ভিন্ন বাস্তবতায় ঘটেছে, সেটি তারা স্বীকার করেন বলেও জানান তিনি।

সমালোচনার মুখে পড়লেও সংযত কণ্ঠে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন লিন্ডব্ল্যাড। তার মতে প্রত্যেক দলের নিজস্ব মতামত থাকতেই পারে, এবং সেগুলো আইসিসিকে জানানোটাও স্বাভাবিক।

তবে স্কটল্যান্ড আপাতত শুধু এটুকুই জানে, তাদের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অনেক দল থেকেই স্কটল্যান্ড শক্তিমত্তায় অনেকটা এগিয়ে।

নিজেদের ব্যর্থ বাছাইপর্বের কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। তার মতে,  স্কটল্যান্ড তাদের স্বাভাবিক মান অনুযায়ী খেলতে পারেনি। তবে সবকিছু মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারায় দল হিসেবে তারা সন্তুষ্ট।

বাংলাদেশের বাদ পড়া আর স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি – এই দুটি ঘটনা যেন একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। একদিকে যোগ্যতা থাকার পরেও ন্যায্য দাবি না মানায় বিশ্বমঞ্চে অংশ নিতে না পারার আক্ষেপ। অন্যদিকে নিজ যোগ্যতা ছাড়াই অপ্রত্যাশিত সুযোগ। স্কটল্যান্ডের বক্তব্যও তাই স্পষ্ট, এই বিশ্বকাপের টিকিট আনন্দের হলেও, তার পেছনে লুকিয়ে আছে এক গভীর মানবিক অস্বস্তি।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link