৯৯ এর ওয়ার্ন হতে চান ২৩ এর জাম্পা

অ্যাডাম জাম্পা কি ইংল্যান্ডকে নিজের প্রিয় প্রতিপক্ষ ভাবেন? ইংলিশদের বিপক্ষে তাঁর যেমন পারফরম্যান্স তাতে এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে; বিশ্বকাপের আগের ছয় ম্যাচে ২১ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি, বোলিং গড় মাত্র ৮.২৪! বিশ্ব মঞ্চেও এই দৃশ্য বদলায়নি একটুও; বরাবরের মতই কবজির মোচড়ে জস বাটলারদের নাভিশ্বাস তুলেছেন তিনি।

সেমিফাইনালের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না অস্ট্রেলিয়ার। এমন ম্যাচে জস বাটলার, বেন স্টোকস আর মঈন আলীর গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন জাম্পা। তাঁর ঘূর্ণিতে এলোমেলো হয়ে গিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মিডল অর্ডার। জয়ের পথে ছুটতে থাকা ইংরেজদের ম্যাচ থেকেই ছিটকে দিয়েছেন এই লেগি।

শুধু ব্যাটারদের আউট করাই নয়, রান আটকানোর বেলাতেও নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। দশ ওভার হাত ঘুরিয়ে মোটে ২১ রান খরচ করেছেন! ৫০০ এর বেশি রান হওয়া একটা ম্যাচে ২.১ ইকোনমিতে বোলিং করা – ‘হাড়কিপ্টে’ বিশেষণে বিশেষায়িত করতেই হবে।

এর আগে ব্যাটিংয়েও অবদান রেখেছেন এই ডানহাতি। ২৪৭ রানে আট উইকেট হারিয়ে ফেলা অস্ট্রেলিয়াকে ৩০০ ছুঁই ছুঁই পুঁজি এনে দিয়েছেন তিনি; করেছেন ১৯ বলে ২৯ রান। সবমিলিয়ে আজ অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্স করেছেন এই তারকা, ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরষ্কারও উঠেছে তাঁর হাতে।

অবশ্য পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই দারুণ সময় কাটাচ্ছেন তিনি। মাঝের ওভারগুলোতে একের পর এক ডট বল আদায় করে চাপ সৃষ্টি করছেন প্রতিপক্ষের ওপর; সেই চাপের সদ্ব্যবহার করে উইকেটও শিকার করছেন। এখন পর্যন্ত ১৯ উইকেট নিয়ে আসরের সেরা বোলার এখন এই স্পিনার।

তাঁর এমন পারফরম্যান্স ফিরিয়ে আনছে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের শেন ওয়ার্নকে। সেবার অস্ট্রেলিয়াকে শিরোপা জেতাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন এই কিংবদন্তি; হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী।

উত্তরসূরীর দেখানো পথেই হাঁটছেন অ্যাডাম জাম্পা; কখনো লেগস্পিন, কখনো আবার গুগলিতে পরাস্ত করছেন বাঘা বাঘা ব্যাটারদের। তিনিও নিশ্চয়ই ওয়ার্নের মত বিশ্বকাপের সেরা বোলার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন; স্বপ্ন দেখছেন তাঁর মত সোনালী ট্রফিতে চুমু খাওয়ার।

নেপালে সাকিব-মাহেদীর অম্লমধুর শুরু

একজনের শুরুটা হয়েছিল প্রায় বিদায়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে, অন্যজনের ব্যাটে জমেনি প্রত্যাশার রং। অথচ দিনের শেষে দুজনেরই নাম উঠল পারফরম্যান্সের খাতায়। শেখ মেহেদী হাসান ব্যাট হাতে ২১ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে হিমালয়ের দেশ কাঁপালেন, আর সাকিব আল হাসান বল হাতে চার ওভারে ২৪ রান দিয়ে তুলে নিলেন একটি উইকেট। নেপাল প্রিমিয়ার লিগে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের জার্সিতে বাংলাদেশের দুই অলরাউন্ডারের অভিষেকটা হলো এমনই! তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের এই প্রাপ্তি শেষ পর্যন্ত ম্লান হলো দলের পরাজয়ে। ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৬.৫ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে প্রতিপক্ষ সুদূর পশ্চিম রয়্যালস, জিতল ৬ উইকেটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link