২০২৪ সালে টেস্টে সবশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন মুমিনুল হক। এরপর থেকে ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ক্রিজে থিতু হন, বোলারদের সামলান, আর ঠিক যখন মনে হয় বড় ইনিংসটা এবার আসছে, তখনই একটা অপ্রয়োজনীয় শটে ফিরে আসেন। দেশসেরা ব্যাটারের এমন ভুলগুলো, এক কথায় দৃষ্টিকটু।
একসময় ‘টেস্ট স্পেশালিস্ট‘ তকমা পাওয়া এই ব্যাটার ৮২ টেস্টে করেছেন ৫ হাজার ২৯৩ রান, সেঞ্চুরি ১৩টি, ফিফটি ২৮টি। দেশের মাটিতে তাঁর গড় প্রায় ৪৮, শ্রীলঙ্কা আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরও ভালো। দীর্ঘ সময় ধরে সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে দূরে থেকে শুধু টেস্টে মনোযোগ রেখেছেন, আর এখন দলের অন্যতম সিনিয়র ব্যাটার হিসেবে ড্রেসিংরুমে বাড়তি দায়িত্বও তাঁর কাঁধেই।
সমস্যাটা রান না পাওয়ার নয়। ২০২৪ সালে ভারতের বিপক্ষে অপরাজিত ১০৭ রানের ইনিংসটাই তাঁর সর্বশেষ সেঞ্চুরি, এরপর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেছে, তিন অঙ্কের দেখা আর মেলেনি। ২০২৫ সালে তিনি চারটি ফিফটি করেছেন, ২০২৬ সালেও করেছেন তিনটি। মানে শুরুটা প্রায় প্রতিবারই ভালো হচ্ছে, কিন্তু সেটাকে বড় ইনিংসে বদলানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটারের নামের পাশে এই প্রবণতা সত্যিই বেমানান লাগে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেও দেখা গেল একই ছবি। তানজিদ হাসান তামিম জেইডন সিলসের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরার পর চাপের মুখে ক্রিজে নামেন মুমিনুল। শামার জোসেফ আর সিলসের নিয়ন্ত্রিত বোলিং,বাউন্স আর ধীরগতির উইকেটে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। তবু তিনি ধৈর্য ধরে খেলেছেন, রোস্টন চেজকে সুইপ করে চার মেরেছেন, আর এই ম্যাচেই ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন। ৫১ বলে ২৮ রান করে যখন পুরোপুরি থিতু, তখন জোমেল ওয়ারিকানের বলে ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে মারতে গেলেন, আর শামার জোসেফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন।
এই আউটটা তাঁর সাম্প্রতিক সমস্যার একটা ছোট নমুনা। বোলারের কাছে হার মানছেন না তিনি, হোঁচট খাচ্ছেন নিজের একটা সিদ্ধান্তে। উইকেট যখন ব্যাটারদের সময় নিতে বলছে, তখন স্পিনারকে আক্রমণ করতে গিয়ে এভাবে বিদায় নেওয়া তাঁর মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের কাছ থেকে আশা করা যায় না।











