তিনে তিন- শরিফুল টু ফিন

মিডল-লেগ স্ট্যাম্প লাইনের লেন্থ বল। সেটায় খানিকটা বেশি বাউন্স প্রত্যাশাই করেছিলেন ফিন অ্যালেন। ব্যাকফুটে দাঁড়িয়ে ড্রাইভ করতে চাইলেন। তবে ‘বুলস আই’! বল গিয়ে সোজা স্ট্যাম্পে হানে আঘাত। শরিফুল ইসলাম জমিয়ে তুললেন ম্যাচ।

বল হাতে দারুণ সময় পার করছেন শরিফুল ইসলাম। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের পেস সহায়ক উইকেটে সময়টা কাটছে তার বেশ। সেই ধারাতেই তিনি ফিন অ্যালেনকে ফেরালেন সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে। তবে এটাই যে নয় প্রথমবার। গুণে গুণে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিন দফা অ্যালেনকে আউট করেছেন শরিফুল।

প্রথম ম্যাচে স্লিপে ক্যাচ আউট হয়েছেন অ্যালেন। শরিফুলের বলে কাভার ড্রাইভ করতে গিয়েই ধরা পড়েছেন তিনি সৌম্য সরকারের হাতে। এরপর তো দ্বিতীয় ম্যাচ ভেসে গিয়েছে বৃষ্টির জলে। তবে এর আগে অবশ্য ১১ ওভার ব্যাটিং করেছে নিউজিল্যান্ড। সেই ম্যাচেও শরিফুলের শিকারে পরিণত হয়েছেন অ্যালেন।

সেদফা এক্সট্রা কাভারে দাঁড়িয়ে থাকা রিশাদ হোসেনের হাতে আটকে যায় অ্যালেনের উচ্চাভিলাষী শট। তৃতীয় ও সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড দেয়নি স্বস্তি। স্বল্প রানের পুঁজি নিয়ে লড়াই করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সেই লড়াইটা একা হাতেই একপেশে করে তুলছিলেন ফিন অ্যালেন। বাংলাদেশের বাকি থাকা কিঞ্চিৎ বিশ্বাসের গায়ে বারবার আঘাত হেনেছেন ব্ল্যাকক্যাপস ওপেনার।

৩১  বলে ৩৮ রান করে তিনি ছিলেন জয়ের নায়ক হওয়ার পথে। কিন্তু শরিফুলের ছিল ভিন্ন পরিকল্পনা। দূর্দান্ত ফর্মে থাকা শরিফুল যেন ফিনকে আরও একবার আউটের ফন্দি এঁটেছিলেন। শেষ অবধি সফলতার মুখও দেখেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের পঞ্চম উইকেট হিসেবে পতন ঘটে অ্যালেন নামক দূর্গের। তাতে করে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখে বাংলাদেশ।

ফিন অ্যালেনকে প্যাভিলনে পাঠানো যেন শরিফুলের অলিখিত এক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে মোট ছয়বার শরিফুলের উইকেটে পরিণত হয়েছেন অ্যালেন। এমন বিরল রেকর্ড যে নেই আর কোন বোলারের পক্ষে। শরিফুল যেন রীতিমত অ্যালেনের যমদূত হয়েই হাজির হয়েছেন এবারের টি-টোয়েন্টি সিরিজে। তার বিপক্ষে কিউই ওপেনার স্রেফ অস্বস্তিকর সময় পার করেছেন।

শরিফুল অ্যালেনকে এবারের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১৮টি বল করেছেন। যার মধ্যে স্রেফ দুইটি চারে দশ রান নিতে পেরেছেন অ্যালেন। আর আউট হয়েছেন তিনবার। সেটাই বরং বলে দেয় ঠিক কতটা অস্বস্তিতে কেটেছে অ্যালেনের দিন। যদিও শেষ অবধি শরিফুল আর অ্যালেনের দ্বৈরথের ফায়দা তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ।

শেষ অবধি বৃষ্টির বাঁধায় জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে নিউজিল্যান্ড। সিরিজ অবশ্য ১-১ সমতায় শেষ করতে পেরেছেন নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এইটুকু প্রাপ্তি অবশ্যই কম নয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে।

নেপালে সাকিব-মাহেদীর অম্লমধুর শুরু

একজনের শুরুটা হয়েছিল প্রায় বিদায়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে, অন্যজনের ব্যাটে জমেনি প্রত্যাশার রং। অথচ দিনের শেষে দুজনেরই নাম উঠল পারফরম্যান্সের খাতায়। শেখ মেহেদী হাসান ব্যাট হাতে ২১ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে হিমালয়ের দেশ কাঁপালেন, আর সাকিব আল হাসান বল হাতে চার ওভারে ২৪ রান দিয়ে তুলে নিলেন একটি উইকেট। নেপাল প্রিমিয়ার লিগে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের জার্সিতে বাংলাদেশের দুই অলরাউন্ডারের অভিষেকটা হলো এমনই! তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের এই প্রাপ্তি শেষ পর্যন্ত ম্লান হলো দলের পরাজয়ে। ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৬.৫ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে প্রতিপক্ষ সুদূর পশ্চিম রয়্যালস, জিতল ৬ উইকেটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link