কর্তারা সিদ্ধান্ত নেয়, অধিনায়ক পালন করে!

গত কয়েক বছরে ক্রিকেটে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। এসবের মাঝে চোখে লাগার মত একটা পরিবর্তন এসেছে কোচিং স্টাফে। আগে দুই তিনজনের প্যানেল থাকলেও এখন যেকোনো দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়ান বিশাল এক বহর; যেখানে কোচদের পাশাপাশি থাকেন মেন্টর, ডিরেক্টর, এনালিস্টরা।

অতিরিক্ত কোচিং স্টাফ আর ম্যানেজম্যান্টের প্রভাব অধিনায়কের ভূমিকাকে সীমাবদ্ধ করছে বলে মনে করছেন ভারতের সাবেক ব্যাটার অজয় ​​জাদেজা। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এটা দুর্ভাগ্যজনক মনে হয়। আমরা যখন বড় হয়েছি তখন অধিনায়ক ছিল সে, যে দলকে পরিচালিত করতো এবং ফলাফলের জন্য দায়ী ছিল।’

এই ধারাভাষ্যকার আরও যোগ করেন, ‘অধিনায়ক ঠিক করতো আপনি কিভাবে খেলবেন, আপনার এপ্রোচ কেমন হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন আর ছেলেরা খেলা পরিচালনা করে না। বরং আমরা যারা ড্রেসিংরুমে বসে থাকি তাঁরাই খেলা চালান।

বয়স ভিত্তিক দলের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জাদেজা বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৫ দলের একটা ছেলে কিন্তু কখনোই পিচ দেখার সুযোগ পায় না। ব্যাটিং করবে নাকি বোলিং করবে সেটা ঠিক করার জন্য কোচ থাকেন। তো একটি বাচ্চা যখন খেলতে শুরু করে, তখন সে কোন সিদ্ধান্ত নেয় না, পিচ দেখে না। সে কখনোই ভাবেই না কেন সে ম্যাচ হেরেছে বা কখন কোন বোলারকে ব্যবহার করা যেত।’

সেজন্য কিছুটা হতাশ সাবেক এই অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের যে শিক্ষা এখন দেয়া হচ্ছে, তা একেবারে সঠিকভাবে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি বলতে চাচ্ছি, এতে কোনো ভুল নেই। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে মনে করি খেলাধুলা করা মানে আপনার বেড়ে ওঠা। ভুল করা এবং শেখাটা জরুরী।’

অধিনায়কত্ব ইস্যুতে নিজের পছন্দের কথাও অকপটে জানিয়েছেন এই তারকা। তিনি বলেন, ‘আমাদের যে অধিনায়ক আছে সে নিজেই যেন সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ দিন শেষে এটি এমন একটি খেলা, প্রতি বলেই গতি পরিবর্তন করে। তাই কোচের পক্ষে প্রতি বলে নির্দেশনা দেয়া সম্ভব নয়। এমন অবস্থায় আপনি সেরাটা চাইলে অধিনায়ককে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে।’

নেপালে সাকিব-মাহেদীর অম্লমধুর শুরু

একজনের শুরুটা হয়েছিল প্রায় বিদায়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে, অন্যজনের ব্যাটে জমেনি প্রত্যাশার রং। অথচ দিনের শেষে দুজনেরই নাম উঠল পারফরম্যান্সের খাতায়। শেখ মেহেদী হাসান ব্যাট হাতে ২১ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে হিমালয়ের দেশ কাঁপালেন, আর সাকিব আল হাসান বল হাতে চার ওভারে ২৪ রান দিয়ে তুলে নিলেন একটি উইকেট। নেপাল প্রিমিয়ার লিগে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের জার্সিতে বাংলাদেশের দুই অলরাউন্ডারের অভিষেকটা হলো এমনই! তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের এই প্রাপ্তি শেষ পর্যন্ত ম্লান হলো দলের পরাজয়ে। ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৬.৫ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে প্রতিপক্ষ সুদূর পশ্চিম রয়্যালস, জিতল ৬ উইকেটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link