এই বেলজিয়াম বড্ড অচেনা!

পরাজয়ের দায়ভার অবশ্য পুরোপুরি বেলজিয়ামের, শক্তিমত্তায় যোজন যোজন পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষেও সেরা পারফরম্যান্সের দেখা পায়নি তাঁরা। কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকুর অভাব ফুটে উঠেছিল তীব্রভাবে।

প্রেসিংয়ের মুখে ভুল করে বসেন ম্যাট স্মেটস, বল তুলে দেন ডি বক্সের ঠিক সামনে থাকা দিয়া সাবার পায়ে। সাবা এগিয়ে যাচ্ছিলেন শট নেয়ার জন্য, কিন্তু তাঁকে থামিয়ে দেয় বেলজিয়ান ডিফেন্স লাইন। যদিও তিনি ততক্ষণে পাস বাড়িয়ে দিয়েছেন সতীর্থ ইয়ার্দেন সুয়ার দিকে, সেই পাস পেয়ে একেবারে ঠান্ডা মাথায় জালের ঠিকানা খুঁজে নেন সুয়া – পুরো ইসরায়েল তখন জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বেলজিয়াম যেখানে ছয় নম্বারে ইসরায়েল সেখানে ৮১ নম্বরে; অথচ ৭৫ ধাপ এগিয়ে থাকা দলটাকেই হারিয়ে দিলো ইসরায়েল। বদলি হিসেবে নামা সুয়ার সুবাদে ১-০ গোলের জয় পায় তাঁরা।

পরাজয়ের দায়ভার অবশ্য পুরোপুরি বেলজিয়ামের, শক্তিমত্তায় যোজন যোজন পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষেও সেরা পারফরম্যান্সের দেখা পায়নি তাঁরা। কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকুর অভাব ফুটে উঠেছিল তীব্রভাবে। পুরো ম্যাচে সত্তর ভাগ বল দখলেও রেখে ফরোয়ার্ডরা এদিন পারেনি একটা গোল আদায় করতে। অথচ শট নিয়েছে সবমিলিয়ে বারোটা আর পাস খেলেছে প্রতিপক্ষের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

রক্ষণভাগের দোষও কম নয়, কাউন্টার এটাকে একাধিকবার খেই হারিয়ে ফেলেছিল তাঁরা। ২৪ মিনিটের মাথাতেই তো গোল হজম করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল দলটি; পোস্ট বাঁধা হয়ে না দাঁড়ালে তখনই পিছিয়ে পড়তে হতো। একই ঘটনা ঘটেছে বিরতির ঠিক আগে; যদিও শেষমেশ ৮৬ মিনিটের সময় তাঁদের প্রতি সুপ্রসন্ন হয় ভাগ্য।

তবে জয় পেলেও রেলিগেশন ঠেকাতে পারেনি ইসরায়েল। ছয় ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে নেশন্স লিগ বি-তে পাড়ি জমিয়েছে তাঁরা। অন্যদিকে, সমান পয়েন্ট সত্ত্বেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় বেলজিয়াম খেলবে রেলিগেশন প্লে অফে।

এবারের নেশন্স লিগ অবশ্য দু:স্বপ্নের মতই কেটেছে ডোমিনিকো টেডেসকোর শিষ্যদের জন্য। পুরো টুর্নামেন্টে জিতেছে কেবল এক ম্যাচ, শেষ চার ম্যাচের কেবল একটাতে পেরেছে ড্র করতে। এখন দেখার বিষয়, এমন দুরাবস্থা থেকে কিভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তাঁরা।

Share via
Copy link