ঘটনাবহুল এক বোলিং স্পেল। বাইশ গজটা যেন আজ বনে গেল নৃত্যের মঞ্চ। প্রথমে নাচলেন তাসকিন আহমেদ। এরপর তার সাথে যুক্ত হলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পার্টটাইমার হিসেবে উইকেট পেলেন ঠিকই। কিন্তু স্পিনার হয়েও মারলেন বিমার, যা আবার ভীষণ দৃষ্টিকটু।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের আগেই চারিদিকে আলোচনা উঠেছিল, কে হবেন ষষ্ঠ বোলার? সেই প্রশ্নের উত্তর হতেই নেট অনুশীলনে শান্ত বোলিং অনুশীলনও করেছেন ম্যাচের ঠিক দুইদিন আগে। নিজেকে একটু প্রস্তুত রাখা আরকি। প্রয়োজনের মুহূর্তে নিদেনপক্ষে এক ওভার করতে যেন পারেন।
তবে এক ওভার নয়, শান্ত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করলেন দুই ওভার। তার বোলিং ফিগারটা চোখের স্বস্তি হতে পারত। কিন্তু সেটা নষ্ট হয়েছে দ্বিতীয় ওভারে তার ছোড়া বিমারের কারণে। প্রথম ছোড়া বলটাই হয়ে যায় ফুলটস। কোমড়ের উপরের সেই বলটাকে চারিথ আসালাঙ্কা সীমানা ছাড়া করতে দ্বিধা করেননি। নো বল ছক্কা দিয়ে শুরু হয় শান্তর দ্বিতীয় ওভার।

কিন্তু ঠিক তার আগের ওভারেই তাসকিনের মত রীতিমত নেচে উদযাপন করেছেন শান্তও। বাইশ গজে থিতু হয়ে যাওয়া জানিথ লিয়ানাগেকে আউট করেন শান্ত। এরপরই রীতিমত বুনো উল্লাসে উদযাপন করেন নিজের উইকেট প্রাপ্তি। সেই ওভারে স্রেফ পাঁচটি রান খরচা শান্তর। তবে জমে ওঠা পার্টনারশীপে ভাঙন তিনি ধরাতে সক্ষম।
মাঠ ভর্তি লঙ্কান দর্শকদের শান্ত করে দিয়ে শান্তর উল্লাস নৃত্য মঞ্চায়ন। নিয়মিত বোলারদের খানিকটা বিশ্রামের সুযোগ করে দিয়েছিল শান্তর সেই দু’টি ওভার। তাছাড়া গুরুত্বপূর্ণ একটা উইকেট শিকার তুলে নিয়ে নাজমুল শান্ত বোঝালেন কেন দলে ষষ্ঠ বোলার প্রয়োজন।
যখন নিয়মিত বোলাররা উইকেট তুলে নিতে বেগ পোহাচ্ছিলেন, সেই মুহূর্তে শান্ত হাজির হয়েছেন উইকেট শিকারি হিসেবে। পার্টটাইমার হিসেবে বলটাও যে তিনি মন্দ করেন না- সে প্রমাণই রেখে গেলেন রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে।












